প্রসিকিউশন সন্তুষ্ট

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা (প্রসিকিউশন)।  

শনিবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী  জেয়াদ আল মালুম বলেন, ‘ আলবদর নেতা মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও নির্যাতনের শিকার যারা তাদের প্রতি ন্যায়বিচার হয়েছে। এই মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আমাদের অনেক ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে সব প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় আমরা স্বস্তিবোধ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রায় কার্যকর করার পর সাক্ষীদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সাক্ষীরা তার কাছে উল্লাস প্রকাশ করে তৃপ্তির অনুভূতির কথা জানিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, শনিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মীর কাসেমের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ মানিকগঞ্জে পৈত্রিক ভিটায় মসজিদের পাশে সমাহিত করার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত: ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আলবদর নেতা মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদসহ আটজনকে হত্যার দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়  তাকে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল। আপিল বিভাগের রায়েও তার এ শাস্তি বহাল থাকে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ দেওয়া হলেও গত ২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না এটা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপরই তার ফাঁসি কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়া শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ।

/ইউআই/টিএন/