দুই মন্ত্রীর স্বপদে বহাল থাকা নিয়ে হাইকোর্টে রিট

শপথ ভঙ্গের পরও দুই মন্ত্রী কেন স্বপদে বহাল আছেন তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। ২৭ মার্চ খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছিলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

এ সংক্রান্ত ৫৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করেন সর্বোচ্চ আদালত। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে এ রায় দেওয়া হয়েছে। আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি আদালত অবমাননা হয়েছে মনে করলেও তিনজন মনে করেন আদালত অবমাননা হয়নি।

৫ মার্চ ঢাকায় ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় মীর কাসেমের রায় নিয়ে কামরুল ও মোজাম্মেল প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সমালোচনা করেছিলেন। এরপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তাদের প্রতি আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। রুলের শুনানি শেষে জরিমানা করে এ রায় দিয়েছিলেন।

দুই মন্ত্রীর পক্ষে গত ১৪ মার্চ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে নোটিশের জবাব দাখিল করা হয়। আদালতের তলবে ১৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী  মোজাম্মেল হক হাজিরা দেন।

তবে বিদেশে থাকায় সেদিন হাজিরা দিতে পারেননি খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ২০ মার্চ ফের দুই মন্ত্রীকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে ২০ মার্চ দুই মন্ত্রী আপিল বিভাগে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন আদালত এবং ২৭ মার্চ দুই মন্ত্রীকে ফের হাজিরের নির্দেশ দেন।
পরে উভয়েরই আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত বলেন, ‘মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত অবমাননা করেছেন তারা। তাদেরকে সাতদিনের মধ্যে জরিমানার টাকা ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ও কিডনি ফাউন্ডেশনকে দিতে বলা হয়। পরে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন তারা।’

আরও পড়ুন: 
সিরাজগঞ্জে জেএমবি’র আত্মঘাতী চার নারী সদস্য আটক

/ইউআই/এসটি/