আমাদের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, যানজট নিরসনে প্রশাসনের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করেও কোনোভাবেই দীর্ঘ সময়ের জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পারছেন না। কিছু সময় স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চলাচল করলেও আবার কিছু সময়ের মধ্যেই জট লেগে যাচ্ছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শুক্রবার সকাল থেকেই প্রচণ্ড যানজট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুইটি মহাসড়কের অন্যতম পয়েন্ট কাঁচপুর সেতুর উভয় পাশে তীব্র যানজট রয়েছে। শুক্রবার রাস্তা গণপরিবহনের সংখ্যা তুলনামূল বেশি থাকা, কাঁচপুর সেতুতে যানবাহনের ধীর গতির কারণেই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত ট্রাফিক কর্মকর্তারা।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে গোড়াই থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার মহাসড়কের কোথাও কোথাও গায়ে গা লেগে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। আবার কিছুক্ষণ পরে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। কোথাও হয়তো আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়েও থাকতে হচ্ছে। আর এ ভোগান্তি নিয়েই শেকড়ের টানে ছুটে চলছে মানুষ।
মহাসড়কে হঠাৎ গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়া, কালিয়াকৈরে রেল ওভারব্রিজ, মির্জাপুরের ধেরুয়া রেলক্রসিং এর জন্যও রাস্তায় জ্যামের সৃষ্টি হয়। এছাড়া দুর্ঘটনা ও যানজটে আটকে থেকে গাড়ির চালকদের ঘুমিয়ে পড়াও রাতের যানজটের অন্যতম কারণ বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কৃষক হোসেন মিয়ার। তিনি ঢাকা এয়ারপোর্টে গিয়েছিলেন বিদেশ ফেরত মেয়ের জামাইকে আনতে। কিন্তু রাস্তায় জ্যাম থাকার কারণে সময় মত পৌঁছাতে না পারায় মেয়ে জামাই এয়ারপোর্টে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে অন্য গাড়িতে চলে আসেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান তিনি।
মহাসড়কে ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল ফারুক বলেন, ‘লিংকরোডগুলো থেকে গাড়ি পাস করতে দুই এক মিনিট হাইওয়ে বন্ধ রাখলেই দুই পাশে গাড়ির লম্বা লাইন লেগে যায়। এছাড়া মির্জাপুরের ধেরুয়া রেল ক্রসিং-এ ট্রেন যাতায়াতের জন্য রাস্তা বন্ধ করলেও গাড়ির প্রচণ্ড জ্যাম লেগে যায়।
টাঙ্গাইলের ট্রাফিক সার্জেন্ট ইফতেখার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে যমুনা সেতুর উপর এবং জামুর্কিসহ কয়েকটি এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটায় রাস্তায় কিছুটা জ্যাম ছিল। একটু সময়ের জন্য গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে ট্রাকের ড্রাইভাররা ঘুমিয়ে পড়ে। ফলে সেই গাড়ির পেছনের গাড়িগুলো আটকে থাকে। ঘুমন্ত ড্রাইভারকে জাগানোর পরে আবার রাস্তা ক্লিয়ার হয়। তারপরও আমরা রাস্তা ক্লিয়ার রাখার চেষ্টা করেছি।’
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, ‘মহাসড়কের কোথাও গাড়ি থেমে নেই। গাড়ি চলছে। তবে ধীর গতিতে চলছে।’
এদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে, আমাদের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম তীরে ধীর গতিতে গাড়ি চলছে।
কড্ডা ট্রাফিক ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বেলায়েত হোসেন জানান, সেতুর পূর্ব পাশে জ্যাম বেশি। থেমে থেমে চলছে গাড়ি।
তবে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে জ্যাম নেই বলে জানিয়েছেন আমাদের গাজীপুর প্রতিনিধি।
আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি শেখ শরিফুল আলমের বরাত দিয়ে জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার মহাসড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা অনেক বেশি। এ কারণে ভোর থেকেই কাঁচপুর সেতুর আশেপাশের এলাকায় প্রচণ্ড যানজট। ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ সকাল থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া কাঁচপুর সেতুটি কিছুটা উঁচু ও সরু থাকায় এ সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি বেশ ধীর গতিতে চলে। এ কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়।
তাছাড়া ভুলতা ফ্লাইওভার ব্রিজের কাজ চলমান থাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এক পাশ সরু হয়ে গেছে। সে কারণে সেখানেও যানবাহনের চাপ রয়েছে। এছাড়া মেঘনা, মেঘনা ও গোমতি সেতুর উপর যানবাহন বিকল হওয়ার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কখনও কখনও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও পড়ুন-
লন্ডনের প্রভাবশালীদের তালিকায় টিউলিপসহ চার বাংলাদেশি
বিদেশি কূটনীতিকরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন, শীর্ষে পাকিস্তান
/বিটি/এফএস/