বাস কাউন্টারে দীর্ঘ অপেক্ষা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলীর বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা কখন আসবে গাড়ি, আর কখন ফিরবেন বাড়ি? বাসের ওঠার জন্যেই যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা। বাসের ওঠার পর সেই বাস কখন গন্তব্যে পৌঁছাবে সে তথ্যও জানা নেই কারও। যাত্রীদের ভিড় বাসের কাউন্টার থেকে ফুটপাতেও ছড়িয়ে পড়েছে! ঈদের সময় এমন সীমাহীন ভোগান্তির জন্য যাত্রীদের প্রশ্ন, যোগাযোগমন্ত্রী এখন কোথায়, কি করছেন আমাদের জন্য?



কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষাশুক্রবার বেলা তিনটার দিকে গাবতলীর নাবিল পরিবহনের কাউন্টারের সামনে থামে কুড়িগ্রাম থেকে আসা একটি বাস। বাসের চালক আব্দুল আজিজ জানান, বৃহস্পতিবার যাত্রী নিয়ে কুড়িগ্রাম থেকে বাস ছেড়ে শুক্রবার দুপুর তিনটায় গাবতলী এসে পৌঁছেছেন তিনি। রাস্তায় ভীষণ জ্যাম, তাই বেশি সময় লেগেছে।

নাবিল পরিবহনের কাউন্টারের ভেতরে ও বাইরেও দেখা গেছে অপেক্ষমান যাত্রীদের ভিড়। শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। কাউন্টারে অপেক্ষমান রবিউল আলম জানান, তার টিকেট কুষ্টিয়াগামী সকাল নয়টার বাসের, তিনটা বাজলেও বাস কোথায় আছে জানে না কাউন্টারের লোকজনও।

গাবতলীতে হানিফ পরিবহনের কর্মী আসাদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ যানজটের কারণে শিডিউল মেনে বাস ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে।

বাস কাউন্টারে দীর্ঘ অপেক্ষা, ভোগান্তিতে যাত্রীরাঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসের দেখা না পেয়ে ক্ষিপ্ত কোনও কোনও যাত্রীরা। রাজধানীর কল্যাণপুরে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারের সামনে অপেক্ষমান যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘১১টায় বাস ছাড়া কথা ছিল, এখন সাড়ে তিনটা বাজে। বাস কখন আসবে আর কখন গিয়ে পৌঁছাবো। বৃদ্ধ মা, আর বাচ্চাদের নিয়ে বেশ বিপদের মধ্যে আছি। টিভিতে খবরে দেখি যোগাযোগমন্ত্রী বেশ দৌড়ান, এত দৌড়ায় কি লাভ। বছরে দুবার বাড়িতে যাই, তাও যদি এই ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।’

এদিকে বাংলা ট্রিবিউনের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অশান্ত পদ্মার থাবায় দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরিঘাটগুলো দফায় দফায় ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যা শুরুর পর থেকেই এই রুটে ফেরি চলাচলের এ খারাপ অবস্থা চলছে।

শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যানবাহনের লাইন প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে যানবাহনগুলো। যাত্রীদের বাসের ভেতর বসে থাকতে হচ্ছে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার ওপরে। রাতে নদীর স্রোতে দফায় দফায় ফেরিঘাট স্থানান্তরের কারণে যানবাহন পার হতে বেশি সময় লাগছে।

/এমও/