ওই কারখানার পাশের একটি গোডাউনের মালিক মো. সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০ বছর ধরে কারখানাটি দেখছি। এখানে তিন শিফটে শ্রমিকরা কাজ করতেন। প্রতিটি শিফটে কাজ করতেন আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ শ্রমিক।’
কারখানাটিতে সিগারেটের লেভেল, ফয়েল পেপার, ডিটারজেন্টের প্যাকেট তৈরি করা হতো বলেও জানান তিনি।
কারখানার পাশের বাসিন্দা ফুলেজা খাতুন বলেন, ‘আমি ভোরে নামাজ পড়ছিলাম তখন বিকট শব্দ পাই। বের হয়ে দেখি কারখানার উপর দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এরপর দেখি আগুন জ্বলে। কিছুক্ষণ পর কারখানটি ডেবে যায়।’
প্রত্যক্ষদর্শী শাহজাহান সাজু বলেন,‘ আমার চাচাতো ভাই মরহুম কাশেম মাতুব্বরের বাড়ি এটি। বর্তমানে তার তিন ছেলে। ফালু মাতুব্বর, জিএম মাতুব্বর ও জাহিদ মাতুব্বর। দুই বিঘার মতো জমি রয়েছে এখানে। ১৯৬১ সালের দিকে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে। স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭৪ সালে কারখানাটি চালু হয়। কারখানাটির মালিক বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সিলেটের মকবুল হোসেন লেচু মিয়া। এটি বিসিক এলাকার ভিতরে পড়েছে। এখানে সব সময় শ্রমিকরা কাজ করেন।’
প্রসঙ্গত, শনিবার ভোরে গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় টাম্পাকো প্যাকেজিং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ হয়। এতে দগ্ধ হয়ে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত অর্ধশতাধিক। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে পারে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী এবং হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। হতাহতরা টঙ্গী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- টাম্পাকোর সিকিউরিটি গার্ড আবদুল হান্নান ও জাহাঙ্গীর, প্রিন্টিং টেনিশিয়ান রফিকুল ইসলাম, শিফট ইনচার্জ শুভাশিশ চন্দ্র, জেনারেটর অপরেটর আনিসুর রহমান, ক্লিনার শঙ্কর সরকার। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহতরা হচ্ছেন- সিকিউরিটি গার্ড দেলোয়ার হোসেন (৪৫), মেশিনম্যান আনোয়ার হোসেন (৪০), শ্রমিক অহিদুজ্জামান স্বপন (৩৪) ও অজ্ঞাত নারী।
আরও পড়ুন:
টঙ্গীতে বয়লার বিস্ফোরণে নিহত অন্তত ২১
বিস্ফোরণের পর ধসে গেছে টঙ্গীর ওই কারখানা
/বিটি/