'বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করছিল শ্রমিকরা'

টঙ্গীতে কারখানায় আগুন ১টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়লস লিমিটেড নামের প্যাকেজিং কারখানায় যখন বয়লার বিস্ফোরণ হয়, তখন কারখানার ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা কাঁচের জানালা দিয়ে হাতের ইশারা করে ও ‘বাঁচাও বাঁচাও’  চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিল। তাদের চিৎকার শুনে বাইরে বের হন আশপাশের বাসার কয়েকজন। কারখানার পাশের বাসিন্দা সালেহা বেগম শনিবার দুপুরে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।  

সালেহা বেগম বলেন, ‘ভোরবেলা তখনও কেউ ঘুম থেকে ওঠেনি। হঠাৎ বিস্ফোরণ। বাইরে বের হয়ে দেখি সব সময় যে বড় লোহার পাইপটি দিয়ে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় সেটা ফেটে উড়ে উড়ে পাশের সব বাড়িতে গিয়ে পড়ছে। তিনতলা, চারতলায় ছেলেরা জানালার পাশে এসে চিৎকার করছিল ‘বাঁচাও বাঁচাও’।’

এতো সকালে সাহায্য করার মতো লোক সেখানে ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন লোকজন আসবে কোথা থেকে। তারপরও ওই পাশের বাসার পুরুষ ও মহিলারা উঠে টিনের চালের ওপর দিয়ে চার পাঁচ জনকে নিয়ে আসে। জানালা ছোট ছোট হওয়ায় কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেনি।’টঙ্গীতে কারখানায় আগুন ২

সালেহা বেগম বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর আবার বিস্ফোরণ হয়। তখন ভবনটি পরে যায়। এরপর ছেলেগুলোর আর কোনও শব্দ পেলাম না। সালেহা বলেন, আল্লাহর ৩০টা দিন এটা খোলা থাকে। চার বছর ধরে এখানে থাকি, কখনও এটা বন্ধ দেখিনি। সবদিন খোলা। গতকাল থেকে ছেলে মেয়েরা কাজ করতে চায়নি, বাড়ি যেতে চাইছিল। কিন্তু মালিকরা বেতন বোনাস দেয়নি। নাইট করাইয়া আজকে বেতন বোনাস দেওয়ার কথা ছিল। তার আগেই সব শেষ।’

কারখানাটা দিয়ে নেইলপালিশের মত ঘ্রান আসতো বলেও তিনি জানান। এই ঘটনায় তার ভাতিজা আশিক (১২) দেয়াল ধসে মারা গেছে। সে ভোরে প্রস্রাব করতে গিয়েছিল কারখানার এরিয়া দেয়ালের পাশে।টঙ্গীতে কারখানায় আগুন ৩

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন কারখানার কর্মীদের কয়েকজনের বরাত দিয়ে জানান, ভোর ৫টায় কারখানার বয়লার অপারেটররা কারকাখানার প্রোডাকশন ম্যানেজারদের বলেছির বয়লার ভয়ঙ্কর গরম হয়ে আছে, বন্ধ করা উচিৎ। কিন্তু তারা তা শোনেনি। উল্টো বলেছে, আর একঘণ্টা চলুক। এরপরতো এমনিতেই বন্ধ হবে।টঙ্গীতে কারখানায় আগুন ৪

তারা জানান, পানির ট্যাংকের ভেতরে লাশ। যখন আগুন ধরে যায় তখন শ্রমিকরা কয়েকজন পানির ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে গরম পানিতে দগ্ধ একজনের লাশ পাওয়া গেছে।

 

/এফএস/