ঢামেক মর্গ প্রাঙ্গণে ১৯ মরদেহ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪

ঢামেক মর্গ প্রাঙ্গণে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স, স্বজনদের ভিড়

টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় অবস্থিত টাম্পাকো ফয়লস লিমিটেড নামের এক প্যাকেজিং কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ও ধসের ঘটনায় নিহত আরও ১৯ মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গ প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছেছে।

বিকাল ৫টায় মরদেহগুলো এসে পৌঁছে বলে জানা গেছে। এদিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় মরদেহ গ্রহণ করতে পারছে না ঢামেক ফরেনসিক বিভাগ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া পাঁচজনসহ এ নিয়ে মৃতের মোট সংখ্যা ২৪-এ দাঁড়ালো।

নিহদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন আনিসুর রহমান (৪০), আব্দুল হান্নান (৬৫), ইদরিস আলী (৪০), জাহাঙ্গীর আলম (২৪), মামুন (২৮), রোজিনা (২০), মিজান (২৮-৩০), সাইদুর রহমান (৫০), মাইনুদ্দিন (৩৫), আল মামুন (৪০), হাসান সিদ্দিকি (৩০), সোলেমান (৩২), এনামুল হক (২৮), রাশেদ (২৫), শঙ্কর সরকার (২৫), গোপাল দাস (২৫), রফিকুল ইসলাম (২৮), সুভাষ চন্দ্র প্রসাদ (৩৫),আশিক (১২), দেলোয়ার হোসেন (৫০), আনোয়ার হোসেন (৪০), ওয়াহিদুজ্জামান স্বপন (৩৫), তাহমিনা আক্তার (২০)।

একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

টঙ্গী থানার দুই কনস্টেবল আনোয়ার ও সিরাজ মোট ১০টি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো  নিয়ে এসেছেন। তাদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কোনও পুলিশ কর্মকর্তা আসেননি।

এদিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় মরদেহ গ্রহণ করতে পারছে না ঢামেক ফরেনসিক বিভাগ। মর্গ সহকারী সেকান্দার আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি জানান।

এর আগে, শনিবার ভোর ৬টা ৫ মিনিটের দিকে টঙ্গীর টাম্পাকো প্যাকেজিং কারখানার নিচতলায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর কাখানায় আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা পমরদেহ মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ২৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কারখানাটি পাঁচ তলা। সেখানে রাতের শিফটে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়ে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে যাতে কোনও ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আশেপাশের ভবনগুলোতে আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে এবং আহত-নিহতদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করছে। ফায়ার সার্ভিসের কাজের সুবিধার্থে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশেপাশে অবস্থান নিয়ে উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিয়েছে।’

ঢামেক থেকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আপনজনের মরদেহের খোঁজে  মর্গ প্রাঙ্গণে ভিড় করেছে মৃতদের আত্মীয় স্বজনেরা। প্রয়োজনীয় কাগজ না পাওয়া ফরেনসিক বিভাগ মরদেহ এখনও মর্গের অভ্যন্তরে গ্রহণ করেনি।  মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে।

/এআইবি/এইচকে/