আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় মামলা

e00a16e994abd46410119fa65d83c36c-57d4ee6c676f6

রাজধানীর আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রবিবার রাত ১১টার দিকে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ৮।

মামলায় তিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন নারী জঙ্গি ও নিহত জঙ্গি মেজর (অব.) জাহিদের পলাতক স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলাকেও আসামি করা হয়েছে।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত শনিবার রাতে লালবাগ থানাধীন আজিমপুরের ২০৯/৫ ২ নং বিডিআর গেট, পিলখানা রোডের একটি ছয় তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।পরে ওই বাসা থেকে এক জঙ্গির মৃতদেহ ও আহত তিন নারী জঙ্গিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,অভিযানের সময় দুই নারী জঙ্গি ও এক পুরুষ জঙ্গি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল।পুরুষ জঙ্গি সফল হলেও অপর দুই নারী জঙ্গিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে ওই বাসায় নক করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথমেই পুলিশকে লক্ষ্য করে মরিচের গুড়া ও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে আরেক নারী জঙ্গি।পরে সাধারণ মানুষের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান,নিহত জঙ্গির সাংগঠনিক নাম আব্দুল করিম। সে নব্য ধারা জেএমবি’র মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীর ডান হাত ছিল। সে মূলত সংগঠনের সদস্যদের জন্য বাসা ভাড়া করে দিতো।একই সঙ্গে সে সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে দিতো।আব্দুল করিম ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে বাসা ভাড়া নিতো।

সর্বশেষ আস্তানাটি ভাড়া নেওয়ার সময় তথ্য ফরমে সে নিজের নাম  শমসের উদ্দিন, পিতা মোসলেহ উদ্দিন, রাজশাহীর বোয়ালিয়ার মেহেরচন্ডীর ঠিকানা দেওয়া ছিল। পরে জানা গেছে, আব্দুল করিমের প্রকৃত নাম তানভীর কাদরী। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। ডাচবাংলা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিল সে।চলতি বছরের প্রথম দিকে সে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেয়।

লালবাগ থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আব্দুল মোনায়েম জানান, ‘মামলা হয়েছে।মামলাটি পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তদন্ত করবে।’

এনএল/এপিএইচ/