গোবর বর্জ্য কম, বালু বেশি






এবারের ঈদুল আজহার বর্জ্যে বালু বেশিরাজধানীর কোরবানির হাটগুলোতে এবার পশুর বর্জ্যের চাইতে বালুর পরিমাণ বেশি দেখা গেছে। বিক্রির জন্য দূর-দুরান্ত থেকে পশুগুলো এনেছিলেন বেপারিরা। পশু ও ক্রেতাদের কাদা থেকে রক্ষা করতে হাটে বালু আনেন ইজারাদাররা। কিন্তু ভারী বর্ষণে কাদা, বালি, গোবর ও গোখাদ্য একাকার হয়ে পড়ে। এগুলো অপসারণ করতেই প্রচুর সময় লাগছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনরে (ডিএসসিসি)।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঈদের দিন মঙ্গলবার বেলা দুইটায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণ শুরু করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। বুধবার বেলা দুইটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা পার হয়েছে। বেলা দুইটায় রাজধানীর গেণ্ডারিয়া, ধোপখোলা মাঠ, ধোলাইখাল সড়ক ও কমলাপুর ঘুরে দেখা গেছে, হাটের জন্য নির্ধারিত স্থান ও আশপাশের সড়কগুলোতে বালু আর বালু। এগুলোর সঙ্গে মিশেছে পশুর বর্জ্য। সিটি করপোরেশনের বুলডোজার ও পেলোডার দিয়ে বালু ও বর্জ্য ট্রাকে ভরা হচ্ছে।
ধোলাইখাল সড়কের বানিয়ানগর মোড়ে রাস্তার বর্জ্য এক স্থানে জড়ো করার সময় সিটি করপোরেশনের পেলোডার-চালক বলেন, ‘পুরো হাটের ভেতরে ও বাইরের সড়কে গোবরের চাইতে বালু কয়েক গুণ বেশি। এই বালু সরাতেই আমাদের অনেক সময় পার হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু পশুর বর্জ্য থাকলে এগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা সম্ভব হতো।
এবারের ঈদুল আজহার বর্জ্যে বালু বেশিএদিকে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনুমোদন দিয়েছিল সাদেক হোসেন খোকা মাঠে হাট বসানোর। কিন্তু প্রভাবশালী ইজারাদাররা শর্ত ভঙ্গ করে মাঠ সংলগ্ন ধোলাইখাল প্রধান সড়কের এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে হাট বসিয়ে দেয়। সড়কের ফুটপাত সংলগ্ন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে বালু ফেলে গরু বাঁধার ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে হাট সম্প্রসারণ করে সড়কের দু’পাশ বালু দিয়ে ভরে ফেলা হয়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এ বালুরও একটা বড় অংশ আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনেজ লাইনে ঢুকে পড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। হাট ইজারা নেওয়ার পর একই অবস্থা হয় কমলাপুর হাটেরও। তবে ধোপখোলা মাঠ হাটের ব্যবস্থাপনা কিছুটা ভালো ছিল এবার।
পশু বর্জ্যের সঙ্গে বালুর উপস্থিতি দেখা গেছে মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং, ভাষাণটেক, কড়াইল টিঅ্যান্ডটি মাঠ ও উত্তরার হাটেও। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মীরা এগুলো অপসারণ করছেন।
এবারের ঈদুল আজহার বর্জ্যে বালু বেশিডিএনসিসির প্রধান বর্জ্যব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর আবদুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃষ্টির কারণেই মূলত ইজারাদাররা হাটে বালি নিয়ে আসেন। এ বালুও আমাদের অপসারণ করতে হচ্ছে। তবে এ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। আমরা দ্রুতগতিতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আশা করি, নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এ কাজ সম্পন্ন করতে পারবো।’ তিনি বলেন, ‘আজ (বুধবার) সারাদিন আমি বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি পরিদর্শন করি। কোথাও বর্জ্য পাইনি। তবে কন্টেইনারগুলো বর্জ্য জমার পরপরই তা ট্রাক দিয়ে অপসারণ করা হচ্ছে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্যব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছরই ইজারাদাররা বালু আনেন। এবারও এনেছেন। আমরা এগুলো অপসারণ করছি।’ এবার বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম আশাব্যঞ্জকভাবে এগিয়ে চলেছে বলে জানান তিনি।
/ওএফ/এবি/

আরও পড়ুন

লোকসান কমাতে এখনই ঢাকায় আসছে না চামড়া!