বৃহস্পতিবার সকালে কথা হচ্ছিল টঙ্গীর টাম্পাকো কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ জহিরুল ইসলামের (৩৭) ভগ্নি আলাউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান,টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার উপুলকি গ্রামে জহিরুলের বাড়ি। তিনি টাম্পাকোর প্রিন্টিং শাখায় গত তিন বছর যাবত কাজ করছে।
আলাউদ্দিন বলেন, টাম্পাকোতে আগুনের খবর শুনে কারখানায় গিয়ে জহিরুলকে খুঁজেছি। টঙ্গী ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালেও খুঁজে তাকে পাইনি। ঈদের রাতেও ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে তাকে খুঁজেছি। গলিত লাশ দেখে সেখানেও তাকে পাইনি। তিনি আরও বলেন,গলিত লাশের ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকা মেডিক্যালে আবেদন করেছি। ওই খানে ডাক্তাররা জানিয়েছে, যিনি ডিএনএ টেস্ট করেন তিনি ছুটিতে রয়েছেন। ঈদের পর ছুটি শেষ হলে তিনি এসে ডিএনএ টেস্ট করবেন।
বৃহস্পতিবার গাজীপুরের টঙ্গীতে টাম্পাকো ফয়েলস অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ৬ষ্ঠ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত মৃতদেহের সংখ্যা ৩৫ এবং আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫। আর নিখোঁজের সংখ্যা ১০।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এর পরিচালক লে. কর্নেল রাশিদুল হাসান জানান, উদ্ধারকর্মীরা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৮০০ টন ফেব্রিক্স পরিষ্কার করেছেন। ৮০টি ড্রাম উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রামগুলোতে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ ছিল। পরে অবশ্য সেগুলো থেকে বিভিন্ন বর্ণের পানি ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি। তাই সেগুলো অগ্নিনির্বাপক দলের ব্যবহৃত পানি ধারণা করা হচ্ছে।
গাজীপুর দমকল বাহিনীর সহকারী উপপরিচালক আক্তারুজ্জামান জানান, একজন নিখোঁজ ব্যক্তির দাবি থাকা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাবো।
দমকল বাহিনীর পরিচালক মেজর শাকিল আহমেদ জানান, দমকল বাহিনীর উপ-পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) বদিউজ্জামানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার টাম্পাকো কারখানা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সেনাবাহিনীকে উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম জানান, অতিরিক্ত জেলা হাকিম রাহেনুল ইসলামকে প্রধান করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট মৃতদেহের সংখ্যা ৩৪। এর মধ্যে একজন নর্দার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আহতের সংখ্যা ৩৫। কারখানার দক্ষিণ পাশের ধ্বংসাবশেষ থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
টঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই ) সুমন ভক্ত জানান, দুপুর ১টার দিকে কারখানার হেলে পড়া অফিস ভবনের ভেতর থেকে আসবাবপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো উদ্ধারের পর ভবনটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে কোনও মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। দুপুর ১টার পর হেলে পড়া ভবনটি ভাঙা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, তদন্তও চলছে, তবে কোনও গ্রেফতার হয়নি।
/এমডিপি/এইচকে/
পড়ুন: সাড়ে পাঁচ হাজার বয়লারের ফিটনেস দেখতে মাত্র ৬ জন পরিদর্শক!