ঈদের পরদিন (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক দম্পতির মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন ৭০ বয়সের আতাউর রহমান ও তার স্ত্রী ৬০ বছরের রওশন আরা। বুধবার ভোরে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রাইভেট কারটি জব্দ করলেও এর চালককে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে পুলিশ গাড়ি থেকে একাধিক মদের বোতল উদ্ধার করেছে।
এর আগে গত বছর অক্টোবরে কিশোর ফারিজের বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় গুলশানে চারজন আহত হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ফারিজ ছিল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এ বি এম ইকবালের ভাতিজা। ফারিজও গাড়ি চালানোর সময়ে মাতাল ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত কয়েকদিন ঈদের ছুটিতে ঢাকা শহর ছিল একেবারেই ফাঁকা। এসময় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মোটরবাইক এবং বিলাসবহুল দামি গাড়িগুলো ছুটেছে রাস্তা কাঁপিয়ে। পাশের রিকশা বা মানুষকে তারা তোয়াক্কাই করে না, বলছিলেন ইস্কাটনের তৌহিদুল আলম।
তিনি বলেন, ‘আজ ইস্কাটনের নেভি প্রধানের বাসভবনের সামনে আরেকটু হলেই আমি চাপা পরতাম গাড়ির নিচে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে বেঁচে গেছি। অথচ গাড়িওলা একটু থামলোও না, যেভাবে যাচ্ছিলো সেভাবেই চলে গেল।’
জানতে চাইলে আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যাতির্ময় বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদের মধ্যে ঢাকার রাস্তা ফাঁকা পেয়ে বেপরোয়া গাড়ি চালানো যেন সাম্প্রতিক সময়ে একটা কালচারে পরিণত হয়েছে। এই কালচারকে শক্ত হাতে দমন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে গিয়েছে। আর যারা এ ধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের দেখা যায়, প্রায় সবাই প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় মামলা হয় না, আর মামলা হলেও তার সুষ্ঠু তদন্ত হয় না।’
‘এসব দুর্ঘটনায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কারও সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে পুলিশের উচিৎ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলা। কোনও একটি দুর্ঘটনার যদি বিচার হতো তাহলে অন্যরাও ভয় পেত’, বলে যোগ করেন জ্যোর্তিময়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবারের অভিভাবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধনী পরিবারগুলোতে এ প্রবণতা বেশি। এ পরিবারগুলোর ছেলেদের দায়িত্ববোধ থাকে না, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে না। পরিবারের অভিভাবকদের উচিৎ সন্তানরা কোথায় কী করছে তার খোঁজ রাখা।’
অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের সময়ে ঢাকার রাস্তা ফাঁকা পেয়ে এক ধরণের ছেলেরা অ্যাডভেঞ্চারে মেতে ওঠে। আর এ প্রবণতাকে বলা হয় রেকলেস অ্যাটিটিউড (Reckless Attitude) বা বেপরোয়া মনোভাব। এ বেপরোয়া মনোভাব মস্তিস্কে উদ্দীপনা জোগায়, যার কারণে তারা কেবল দ্রুত গতিতে রাস্তায় নয়, যদি পারতো আকাশ দিয়ে গাড়ি চালাতো। তখন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না, পারিপার্শ্বিক চারিদিকে মনোযোগ থাকে না।’
‘আর এ মনোভাবের সঙ্গে মাদক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যারা অ্যালকোহল গ্রহণ করে তারাই রেকলেস অ্যাটিটিউটে বেশি আক্রান্ত হয় আত্মনিয়ন্ত্রণের সবকটি পথ তারা হারিয়ে ফেলে’, বলেন ডা. তাজুল ইসলাম।
ছবি: সাজ্জাদ
/এইচকে/এমও/