নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি স্থানান্তরিত হওয়ায় এর দেওয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা মাক্কুশা মাজারে আগের মতো দর্শনার্থী আসে না। কমে গেছে মাজারটির আয়ও। মাজারের দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা খাদেম জানিয়েছেন, এখন খরচ চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই, কারাগারে ভেতরে জায়গা চায় তারা।
বৃহস্পতিবার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দেখা গেছে, দু’ব্যক্তি মাক্কুশা মাজারটি ধোয়ামোছার কাজ করছেন। মাজারের ছোট্ট বারান্দায় এক তরুণী বসে আছেন। পথচারীরা কেউ কেউ যাওয়া আসার সময় মাজারের দিতে তাকিয়ে সালাম করছেন। কেউ জিয়ারত করে চলে যাচ্ছেন। কেউ আবার রিকশা ও হিউম্যান হলার (লেগুনা) থেকে টাকা ছুড়ে দিচ্ছেন। বসে থাকা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি ৫, ১০ ও ২০ টাকার নোটগুলো কুড়িয়ে গুছিয়ে রাখছেন।
মাজারের খাদেমের ছেলে মুক্তার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার দাদা মো. আলাউদ্দিন ওরফে আলাদু প্রথম মাজারের খাদেম ছিলেন। তার মৃত্যুর পর আমার বাবা মো. নাসরুল্লাহ মিয়া খাদেমের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে মাজারে লোকজন কম আসেন। আগে কারাগারে আট/নয় হাজার বন্দি ছিলেন। তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে স্বজনরা আসতেন। এখন আর আসে না। সে কারণে মাজারের আয় কমে গেছে।’
নাজিমউদ্দিন রোডের ২০০ বছরের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার গত ১৯ জুলাই কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত করা হয়। রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগারে সব বন্দিদের নেওয়া হয়। পুরনো কারাগারটিতে বর্তমানে শুধু কারা-বেকারি রয়েছে।
পুরনো কারাগারটি নিয়ে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। সেই কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) বি. জে. সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।
মাক্কুশা মাজারের খাদেম মো. নাসরুল্লাহ মিয়া বলেন, ‘কারাগারে যখন বন্দি ছিল, তখন প্রতিদিন পাঁচশ থেকে সাতশ টাকা আয় হতো। এখন কমে তিনশ থেকে চারশতে নেমে এসেছে। প্রতিদিন মাজার পরিষ্কার করার জন্য ১৫০ টাকা খরচ হয়। এছাড়াও আরও খরচ আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাজারটি আমরা বংশপরম্পায় দেখাশোনা করে আসছি। ২০০০ সালে এর সংস্কার করা হয়েছে। তখন কারাগারের দেওয়াল ও সড়ক বড় করায় মাজারের আয়তন কমে আসে। কারাগারের নিরাপত্তার জন্য আমাদের মাজারের এখান থেকে দেওয়ালটি আরও উঁচু করা হয়। তৎকালীন আইজি প্রিজন আমাকে আশ্বাস দিয়েছিল সুযোগ হলে তিনি মাজারটি আরও বড় করে দিবেন। তবে তা আর হয়নি।’
সরেজমিন দেখা গেছে, কারাগারে প্রবেশের সড়কটি বড় করা হলেও মাজারটি সড়কের ওপর থাকায় তার সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। তবে তা নিয়ে তাদের কোনও ক্ষোভ নেই। তারপরও তারা মাজারের উন্নতি চান।
মাজারের খাদেম নাসরুল্লাহ বলেন, ‘এখন কারাগার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের মাজারটি ভেতরে ইচ্ছা করলে কর্তৃপক্ষ নিতে পারে। আমরা স্থানীয় কমিশনার ও কারা কর্তৃপক্ষকে এই দাবি আগেও বলেছি। শুনেছি কারাগার স্থলে পার্ক, শপিংমল করা হবে। আমাদের মাজারটিও সংস্কারের মধ্যে রাখলে এলাকাবাসী খুশি হবে।’
এবিষয়ে কারা অধিদফতরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক ইকবাল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাজার আছে যেখানে সেখাই থাকবে। কারাগারের জায়গায় গৃহীত প্রকল্প নিয়ে এখনও কাজ চলছে। ভেতরে কোন সব স্থাপনা থাকবে তা নকশা চূড়ান্ত হলেই জানা যাবে।’
আরও পড়ুন: ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ: নেপথ্যে রক্তপানির মিশ্রণ
/এআরআর/এনএস/এবি/