২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)-এর প্রার্থী হিসেবে এ এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টির মধ্যে ১৫৩টি আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ভোটগ্রহণ হয় ১৪৭টি আসনে। নির্বাচনে অংশ নেন ১২টি রাজনৈতিক দলের ৫৪৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ১০৪ জন।
নির্বাচনে আবুল কালাম আজাদের বিএনএফপ্রার্থী দিয়েছিল ২২টি আসনে। এগুলোর মধ্যে মাত্র একটি আসনে জয়লাভ করে দলটি। বিজয়ী এই প্রার্থীই হলেন ঢাকা-১৭ আসনের আবুল কালাম আজাদ। ওই নির্বাচনে টেলিভিশন প্রতীক পাওয়া আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জাতীয় পার্টি-জেপির আবদুল লতিফ মল্লিক (প্রতীক- বাইসাইকেল) ও স্বতন্ত্র এমএ হান্নান মৃধা (ফুটবল)। এই আসনে ভোটার ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৮ জন। আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৫৮৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএ হান্নান মৃধা পান ৪ হাজার ৪৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ছিল ৩৯ হাজার ৫৩৯।
নির্বাচনি মাঠ থেকে আসা এই সংসদ সদস্যকে এলাকার অনেক মানুষ চেনে না। কোনও অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায় না—এমন অভিযোগ অনেকের। খোদ পার্শ্ববর্তী এলাকার (ঢাকা-১১/বাড্ডা) সংসদ সদস্য একেএম রহমত উল্লাহও এমনই কথা বলেন। গত ১০ আগস্ট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর সার্কুলার বাস সার্ভিস ‘ঢাকা চাকা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেন, ‘গুলশানের এমপি কে, তাকে জনগণ চেনে না। তিনি কোনও কাজে আসেন না। মনে হয় আমি তার চেহারা ভুলে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে তার নাম ভুলে যাই। কোথাও তাকে পাওয়া যায় না বলে গুলশানের কাজও আমাকে করতে হয়।’
ভাসানটেক এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালেক মোল্লা বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ আমাদের এলাকার এমপি হলেও এদিকে তেমন আসেন না। মাঝে মধ্যে তার সঙ্গে ফোনে কথা হয়। একবার বেশি প্রয়োজন হওয়ায় তার ন্যামভবনের বাসায় গিয়ে দেখা করেছি।’
ঢাকা-১৭ আসনের আওতাধীন শাহজাদপুরের বাসিন্দা ফটোসাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এলাকার এমপিকে আমি চিনি না। তাকে কখনও দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘স্থানীয় এমপি নিয়মিত তার এলাকা ঘুরে দেখবেন, সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন, সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু তাকে তো কোথাও পাওয়া যায় না।’
রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার এমপি হয়েও কেন আলোচনায় নেই কিংবা এলাকায় পরিচিতি নেই—এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল কালাম আজাদ বলেন, রহমতুল্লাহ এখন গুলশানের এমপি হতে চান। সরকারি অফিস থেকে যেসব দাওয়াত আমাকে দেওয়া হয়, সেগুলো আমার কাছে আসে না। এসব দাওয়াত জোর করে অন্যত্র চলে যায়। এখন জোর করে আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটিতে তারা আছেন। উনি সব বুঝে নিচ্ছেন। এটি একজন সংসদ সদস্যের মর্যাদা ও অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ। একথা আমি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পার্লামেন্টে বলেছি। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছি, স্পিকারকে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য।’ তিনি বলেন, ‘পার্লামেন্ট অধিবেশন শেষ হলো ২৭ জুলাই। এর একদিন আগে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির হামলা নিয়ে আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় আমি পাঁচটা প্রস্তাব দিয়েছি। এর মধ্যে একটা ছিল সংসদীয় এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধির নেতৃত্বে সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি হতে হবে। আমার এ দাবিকে পুরো হাউজ সমর্থন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও তার বক্তৃতায় বলেছেন, লোকাল এমপির নেতৃত্বে সন্ত্রাসীবিরোধী কমিটি হবে। অথচ রহমতুল্লাহ সাহেব এসব চান না। আপনি লিখে দেন যে, গুলশান আওয়ামী লীগ এটা মানতে চায় না।’
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বিএনএফকে মেনে নিয়েছেন, বিএনএফের সঙ্গে শেয়ার করেন। কিন্তু তার নেতৃত্বাধীন উত্তর সিটি আওয়ামী লীগ তা মানে না। অর্থাৎ তিনি তার নেত্রীকে মানেন না। আমাকে মানার তো প্রশ্নই আসে না। এখানে সংসদের সিদ্ধান্ত, আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর সিদ্ধান্ত, স্পিকারের সিদ্ধান্ত তিনি মানেন না।’
আবুল কালাম আজাদের এই অভিযোগের জবাব জানতে এ প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন একেএম রহমতউল্লাহর দফতরে। সেখান থেকে জানানো হয় তিনি বিদেশ গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তার পিএস সুমন জানান, ‘এমপি সাহেব (একেএম রহমতউল্লাহ) বর্তমানে লন্ডন সফরে রয়েছেন।’
/এনএমএইচ/