খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথমত প্রধানমন্ত্রী দেশে নেই। তিনি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। দেশে ফিরবেন ৩০ সেপ্টেম্বর। এ কারণে এমনিতেই চাপ কম। তার ওপর (২৪ সেপ্টেম্বর) শনিবার ছিল ১১ সেপ্টেম্বর রবিবারের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ার্কিং ডে। সে কারণে পূর্বনির্ধারিত কোনও মিটিংও ছিল না। তাই এই ঢিলেমি বা অলসতা।
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী ক্ষমতাবলে ১১ সেপ্টেম্বর রবিবার অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এর পরিবর্তে ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার ছিল কর্মদিবস। আজ ছিল রিপ্লেসমেন্ট ওয়ার্কিং ডে।
অন্য দিনগুলোয় সকাল ৯টা থেকে সচিবালয়ের গেটে কর্মকর্তা কর্মচারীদের ও প্রবেশের লাইন দেখা গেলেও শনিবার কোনও লাইনই ছিল না। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন খুবই সাচ্ছন্দ্যে এবং লাইন ছাড়া। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্ক্যানিং মেশিনেও ছিল না ভিড়। দেখা গেছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন মাত্র একজন সচিব। ওই সময়ের মধ্যে সচিবালয়ে আসেননি কোনও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী। তারা বেশিরভাগ এসেছেন বেলা ১১টার পরে। তবে ১১টার আগে এসেছেন ২/১জন।
দেখা গেছে, সকাল ১০টা ৩ মিনিটে সচিবালয়ের গেট পেরিয়ে প্রথম ভেতরে প্রবেশ করেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ কাদের সরকার। তবে মন্ত্রী ও সচিব না এলেও সচিবালয়ের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ যথারীতি নির্দিষ্ট সময়েই অফিসে হাজির হয়েছেন।
সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, পাটমন্ত্রী ইয়াজউদ্দিন প্রামাণিক, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খোন্দকার মোশররফ হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দেশে নেই। এছাড়া সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস এই তিন দেশ সফরে শনিবার সকালে ঢাকা ছেড়ে গেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমানও বিদেশ সফরে গেছেন শুক্রবার রাতে। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ আগে থেকেই বিদেশে আছেন। তাই অর্থ মন্ত্রণালয় শনিবার ছিল মন্ত্রী ও সচিব শূন্য। এই মুহূর্তে বিদেশে আছেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের টেকসাস থেকে দেশে ফিরেছেন। এজন্য তার অফিস আসতে দেরি হবে বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম। তবে তিনি বেলা ১১টার কিছু সময় পরেই সচিবালয়ের নিজ দফতরে পৌঁছান। একই সময় নিজ দফতরে পৌঁছান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি কিছু সময় থেকে সচিবালয় থেকে বেরিয়ে যান।
রমনা পার্কের রমনা রেস্তোরাঁয় আয়োজিত একটি পূর্বনির্ধারিত সভা এবং এরপরে আরও একটি সভায় যোগ দেওয়ায় সচিবালয়ে আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জনিয়ার মোশাররফ হোসেনের।
একইভাবে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাবনা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এর পরেই তিনি সচিবালয়ে আসেন। পাট মন্ত্রণালয়ের পিআরও সৈকত চন্দ্র হালদার জানিয়েছেন, ‘মন্ত্রী ইয়াজউদ্দিন প্রামাণিক বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম ১০টার কিছু পরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে আসেন।’
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু নিজ দফতরে আসেন বেলা সাড়ে এগারোটার পর। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পিআরও রবীন্দ্রনাথ রায় আগেই জানিয়েছিলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার অফিসে আসবেন। তবে কখন আসবেন, তার জানা নেই।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দেশেই আছেন। তিনি বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ সচিবালয়ে আসেননি। একইভাবে অফিসে আসেননি ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
এদিকে, সকাল থেকেই সচিবালয়ের প্রধান ফটকে দর্শনার্থীদের ভিড়ও খুব একটা ছিল না। কারণ অনেকেরই মনে ছিল না যে শনিবার সচিবালয় খোলা আছে। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতরে বহিরাগতদের আনাগোনাও ছিল না।
উল্লেখ্য, এবার ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য সম্ভাব্য তারিখ ছিল ১২ সেপ্টেম্বর সোমবার। এ উপলক্ষে সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল ১১, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রবি, সোম ও মঙ্গলবার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে দেশের আকাশে জিলহ্জ মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ঈদুল আযহা সোমবারের পরিবর্তে মঙ্গলবার নির্ধারিত হয়। তাতে রবিবার অফিস খোলা রেখে সোমবার থেকে ছুটি শুরু হয়। কিন্তু রবিবারের আগে দু’দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এ কারণে রবিবার অফিস করাটা কঠিন হয়ে ওঠার সম্ভবনা দেখা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১ সেপ্টেম্বব রবিবার ও ১৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এই দু’দিন ছুটির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তাতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে ১১ সেপ্টেম্বর রবিবার একদিন ছুটি ঘোষণা করে ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবারকে কর্মদিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ কারণেই শনিবার কর্মদিবস হিসেবে পালিত হয়।
আরও পড়ুন: ৯টার অফিস ১১টায়!
/এমএনএইচ/