জলির আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীর শাস্তি দাবি

 

জলির আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীর শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন। ছবি- উদিসা ইসলামরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের (জলি) আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনাকারীর শাস্তির দাবি তুলেছে বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাজধানীতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আত্মহত্যার ঘটনার তিন সপ্তাহ পার হলেও আইনগত দিকে থেকে এখনও দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে অজ্ঞাতনামা প্ররোচনাকারী/প্ররোচনারকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও হয়েছে।

জলির আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী/প্ররোচনাকারীদের শাস্তির দাবিতে আলোকপ্রজ্জ্বলনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রত্যেকটি আত্মহত্যাই আদতে একটি হত্যাকাণ্ড। প্রত্যেকটি আত্মহত্যাই সমাজের সিস্টেমেটিক কিলিং। আকতার জাহান জীবন দিয়ে এই সমাজ, এর আইন, সম্পর্ক চর্চার ধরন, শৃঙ্খলা-শাস্তি সর্বোপরি পুরুষ-শাসনকে উন্মোচন করে গেছেন।

জলির আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীর শাস্তি দাবি ও আলোকপ্রজ্জ্বলন। ছবি- উদিসা ইসলাম
৯ সেপ্টেম্বর বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে আকতার জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ল্যাপটপের নিচে তার নিজ হাতে লেখা একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। সুইসাইড নোটে আকতার জাহান উল্লেখ করেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম। সোয়াদকে (তার একমাত্র সন্তান) যেন ওর বাবা কোনোভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে- সে যে কোনো সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে। আমার মৃতদেহ ঢাকায় না নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেওয়ার অনুরোধ করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষক তানভির আহমদের সঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করেন আকতার জাহান। ২০১২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

/ইউআই/এআরএল/এইচকে/