নির্বচন কমিশন সংস্কার নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিএনপি কী ধরনের নির্বাচন কমিশন চায়? বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০১-২০০৬ সালে ১ কোটি ৩৯ লাখ ভুয়া ভোটার হয়েছিল। এখন আবার তাদের পরামর্শ শুনলে ওই রকম ভুয়া ভোটার তালিকা করতে হবে। আপনাদের কাছে প্রশ্ন, এ রকম ভুয়া ভোটার তালিকা চান?’ রবিবার বিকেল চারটার পর প্রধামন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্ন-উত্তর পর্বে একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মনজুরুল আহসান বুলবুলের এই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মনজুরুল আহসান বুলবুল জানতে চান: ‘বিএনপি নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবি তুলেছে। এ বিষয়ে ...।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৬ সালে তারা ক্ষমতায় থাকার সময় নির্বাচন কমিশন গঠন করে। কিন্তু ১ কোটি ২১ লাখ ভুয়া ভোটার সংবলিত ভোটার তালিকা তৈরি করেছিল ও ইসি। কিন্তু বর্তমান ইসি তা করেনি। তাই তারা এই নির্বাচন কমিশন চায় না। তারা ভোটারবিহীন মাগুরা উপনির্বাচন, মিরপুর উপনির্বাচন, তেজগাঁও উপনির্বাচন করেছিল। তারা এমন নির্বাচনই চায়।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে চ্যানেল আইয়ের তারিকুল ইসলাম মাসুম জানতে চান, ‘বাংলাদেশ কি পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্ক সম্মেলনের চিন্তা করছে? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনও দুটি দেশের মধ্যে মতবিরোধ বা চিন্তার ভিন্নতা থাকতে পারে। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। পাকিস্তান ৭৪ সালে আমাদের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল। তাই তারা আমাদের সমালোচনা করেছে। আমরা এর প্রতিবাদ করেছি। যেহেতু পাকিস্তান এ ধরনের মন্তব্য করেছেন, তাই আমরা যাচ্ছি না। সাতটি দেশের মধ্যে চারটি যদি না যায়, তাহলে কি আর সম্মেলন হবে?’ তবে এ সময় পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে সরাসরি মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী।
মনজুরুল আহসান বুলবুল জানতে চান: ‘এর আগে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে আপনি দুই দেশ সফর করে বলেছিলেন, তারা যেন এরকম পাগলামি না করে। এখন আবার দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে?’
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই না উত্তেজনা সৃষ্টি হোক—এ ধরনের কিছু আমি চাই না। সংঘাত হলে এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। সংঘাত হোক, তা আমাদের কাম্য নয়।’
দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘সার্কের কী হবে?’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে হবে, আমার একার সিদ্ধান্তে কিছু হবে না। এই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সার্কের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য আমরা কিভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারি, তাই করব। তবে সার্কের কী হবে, সে বিষয়ে এককভাবে কোনও মত দিতে পারি না।’ সার্ক থাকবে কি না, এ ব্যাপারে একক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য যৌথ কিছু একটা থাকা উচিত। সমস্যাগুলো সার্কের মাধ্যমে সমাধান করা যাচ্ছে না, সমস্যাগুলো চিহ্নিত হলেও তা কার্পেটের নিচে রেখ দেওয়া হচ্ছে। ’
প্রশ্ন-উত্তর পর্বের আগে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠাতে কানাডা সরকারকে অনুরোধ করি। কানাডার জনগণও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন দিয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও কানাডার গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলন সম্পর্কে বলেন, এ সময় আমি ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার পাই। এ পুরস্কার দুটি জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করলাম। এ সময় সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে নির্মাণে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অবদান আছে।’ তিনি বলেন, ‘জয়ের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে মা হিসেবে আমি গর্বিত।’
পিএইচসি/টিএন/এমএনএইচ/