আজ সোমবার সকাল থেকে রাজধানী ও কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়ায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ কার্ড বিতরণ করা হবে। সকাল ৯টা থেকে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। প্রথম দিনেই স্মার্ট কার্ড বিতরণে বেশকিছু অব্যস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রথমদিনে সিদ্বেশরী গার্লস কলেজ ও উত্তরা হাইস্কুল থেকে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। এই দুটি স্কুলে সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে কার্ড বিতরণ চলছে।
সিদ্বেশরী গার্লস কলেজ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বার ওয়ার্ডের আওতাধীন কাকরাইল (রমনা থানা) অংশ, ডিআইপি কলোনি, নিউ বেইলি রোড এবং কাকরাইল (মতিঝিল থানা) অংশে ভোটারদের কাছে স্মার্ট কার্ড বিতরণ চলছে।
উত্তরা হাইস্কুলে থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নং ওয়ার্ডের কয়েকটি এলাকায় স্মাট কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
তবে সিদ্বেশরী কেন্দ্রে সরজমিনে গিয়ে বেশ কিছু অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। কয়েকজন ভোটারকে কার্ড না পেয়ে অসোন্তষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আঙুলের ছাপ ক্রস ম্যাচ মেশিন কিছু ঝামেলা করে। এতে কার্ড বিতরণে বেশি সময় লাগছে।
সোহানা সিলভানা নামে এক ভোটারের অভিযোগ, ‘একই হোল্ডিংয় থেকে আমার বাবাসহ আমরা পরিবারের সবাই ভোটার হয়েছিলাম। কিন্তু স্মার্ট কার্ড নিতে এসে দেখি বাবা ছাড়া আর কারও কার্ড পাওয়া যাচ্ছে না।’
শাম্মী আখতার নামে অপর এক ভোটার বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি ছিল রঙিন। কিন্তু স্মার্ট কার্ডের ছবি সাদাকালো। এটা স্মার্ট কার্ডের সঙ্গে বেমানান।’
তবে কেউ কেউ অবশ্য কার্ড পেয়ে সন্তুষ্ট। ডিআইপি কলোনির ভোটার ফরিদ হোসেন স্মার্ট কার্ড পেয়ে বলেন, ‘কার্ডটির গুণগত মান ভালো। শুনেছি এটি অনেক কাজে ব্যবহার করা যাবে।’
এদিকে ওই কেন্দ্রে আরও দেখা যায়, ‘১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট চারটি এলাকার বাইরের অনেকেই সেখানে স্মার্ট কার্ড নিতে ভিড় জমিয়েছে। যদিও কম্পিউটার অপারেটররা এদের কারও কারও দশ আঙুলের ছাপ ও চোখের আয়রিশের ছবি নিয়ে স্লিপ দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তী নির্দিষ্ট দিনে তাদের কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়। আবার কাউকে আঙুলের ছাপ না নিয়েই ফেরত পাঠানো হয়। এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।’
বাজে কাকরাইল এলাকার এক ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কার্ড না দিলে ছবি আঙুলে ছাপা নিলেন কেন?’ পরে নির্বাচন অফিসের লোকজন তাকে বুঝিয়ে বললে তিনি শান্ত হন।
এবিষয়ে ঢাকা জেলা নির্বাচন অফিসার মো. শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথম দিন হওয়ায়। আমাদের এ ধরনের কিছু সমস্যা চোখে পড়েছে। তা ছাড়া বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। কোন এলাকার কাদের কবে কার্ড দেওয়া হবে। এরপরেও অনেকে না বুঝেই কার্ড নিতে চলে এসেছেন। যার কারণে তারা কার্ড পাচ্ছেন না। তবে নির্দিষ্ট আলাকারও দুই একজন ভোটার কার্ড পায়নি এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাদের আজ কার্ড নেওয়ার তারিখ ছিল তাদের পরবর্তীতে বাসায় গিয়ে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, আগামীকাল সিদ্বেশ্বরী স্কুল থেকে ইস্কাটন গার্ডেন রোড এলাকার ভোটারদের স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে।
আরও পড়ুন: দাশিয়ারছড়াবাসীর হাতে স্মার্টকার্ড
/ইএইচএস/এনএস/এসটি/