‘জেলা পরিষদ অধ্যাদেশ’ ও ‘ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন’ আইন আকারে প্রকাশের অনুমোদন

মন্ত্রিসভার বেঠক (ফাইল ফটো)‘জেলা পরিষদ সংশোধন অধ্যাদেশ-২০১৬’ এবং ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন’ আইন আকারে পাসের জন্য খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।

সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

তিনি জানান, ‘জেলা পরিষদ সংশোধন অধ্যাদেশ-২০১৬ এর খসড়ায় একটু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ জেলা পরিষদ সংশোধন অধ্যাদেশ-২০১৬’র খসড়ায় আনা সংশোধনীটি হচ্ছে নির্বাচনে ইচ্ছুক জেলা প্রশাসকদের পদত্যাগ সংক্রান্ত। সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান জেলা প্রশাসকরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাইলে তাদের প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। আগে এই বিধিটি অধ্যাদেশে ছিল না। এটি সংযুক্ত করা হয়েছে।’

জেলা পরিষদ সংশোধন অধ্যাদেশ

এর আগে গত ২৯ আগস্ট ‘জেলা পরিষদ সংশোধন অধ্যদেশ-২০১৬’ এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

আইনে বলা হয়েছে, এলাকা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলা পরিষদকে ১৫টি ভাগ করা হবে। প্রত্যেককে একটি করে এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে নারী সদস্যরা একেকজন তিনটি এলাকার দায়িত্ব পাবেন।

আইনের ১০ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের কোনও সদস্য ফৌজদারি মামলায় চার্জশিট প্রাপ্ত হলে, গ্রেফতার হলে অথবা তার নামে ওয়ারেন্ট জারি হলে তিনি বরখাস্ত হবেন।

১৭ (১) ধারায় বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ হবে ২১ সদস্যের। যার মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও ৫ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য। তারা নির্বাচিত হবেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কাউন্সিল ও মহিলা সদস্য, পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভোটে।

২০ (৩) উপ ধারায় বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনও প্রার্থী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ৬ মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

৩১ ধারায় বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে চেয়ারম্যানের কাছে। তবে তার অনুপস্থিতিতে কাউন্সিলরদের মধ্যে থেকে একজন বা সরকারি কর্মকর্তাও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সেটা সরকার কর্তৃক গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন

গত ১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৬ -এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা কমানো হয়েছে।

আগে চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তে কমিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সিদ্ধান্তই কমিশনের সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়াও আগে কমিশনে সদস্য ছিলেন সাতজন। এখন সদস্য সংখ্যা বেড়ে আটজন হয়েছে। আগে চেয়ারম্যানসহ তিনজন মিলে কোরাম হতো। এখন চারজন মিলে কোরাম হবে।

জানা যায়, আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট তিন পার্বত্য জেলা সার্কেলের তিন রাজা, বিভাগীয় কমিশনার মিলে এই কমিশনের সদস্য হবেন। তিন পার্বত্য জেলা সার্কেল হলো- বান্দরবানের মং, রাঙামাটির চাকমা, খাগরাছড়ির ত্রিপুরা।

/এসআই/এসএনএইচ/টিএন/