ঢাকা-দিল্লি নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে সন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র

bbb

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে সন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র।  রবিবার বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সংলাপে কৌশলগত অগ্রাধিকার ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় ঢাকা-দিল্লি নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেছে।

পঞ্চম নিরাপত্তা সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামরুল আহসান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি উইলিয়াম মোনাহান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে প্রায় ১০টি চুক্তি রয়েছে এবং ২০১১ সালে দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে বলা হয়েছে। শুধু তাই না ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময়ে ঘোষিত যৌথ বিবৃতিতেও এ বিষয়টি পুনরায় বলা হয়েছে। আমরা এ বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছি এবং এ বিষয়ে তারা তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে, বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি,বন্দি বিনিময় চুক্তি,সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মাদক চোরাচালান, মানব পাচার, জাল নোট প্রতিরোধসহ আরও কয়েকটি নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি আছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীন ও দক্ষিণ চীন সুমদ্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশকে জানানো হয় এবং বিষয়ে ঢাকার সুস্পষ্ট অবস্থান আছে।

চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগী দেশ এবং দক্ষিণ চীন সুমদ্র বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে, ঢাকা এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন,যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রশংসা করলেও আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা বৈঠকে জানায়।

বাংলাদেশে যেসব সন্ত্রাসী ধরা পড়েছে তাদের বেশিরভাগেরই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগে নিহত হয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য হচ্ছে, সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে তথ্য ও অন্যান্য বিষয় জানার পরে তাদের বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন করলে সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ আরও বেশি কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনও সন্ত্রাসীকেই আইন-বহির্ভূতভাবে  হত্যা করা হয়নি বরং তারা সবাই এনকাউন্টারে মারা গেছে।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি, লজিস্টিক ও ইক্যুইপমেন্ট সহায়তা চেয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা  বলেন,এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

এ সংলাপের পরে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই মাসে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পর সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘হলি আর্টিজানে হামলার পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের সকল এজেন্সির গৃহীত পদক্ষেপ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট উদ্বোধনেরও প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে, তারা উভয়ই ঝুঁকির সম্মুখীন এবং উগ্রবাদী সংগঠন আইসিস বা দায়েস সারা বিশ্বের জন্য হুমকি।সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের প্রতি বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ড কোনও সন্ত্রাসীকে ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’

এসএসজেড/ এপিএইচ /