সীমান্তে একটা লোক মারা যাক, তা আমরা চাই না

বাংলাদেশ ভারত সীমান্তসীমান্তে একটি লোক মারা যাক তা আমরা চাই না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ কাজ করছে।’

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সচিবালয় রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ইস্যুতে আয়োজিত সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নেব জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাল্টা প্রশ্ন করেন গত কয়েক বছরে সীমান্তে ৭৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করা হলেও ভারতের একজনও মারা যায়নি। ভারতের এ ধরনের আচরণকে সমর্থন করেন কিনা?

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক না। বাংলাদেশিরা মারা গেলেও ভারতের একজনও মারা যায়নি সেটাও ঠিক না। তবে আমরা বলতে চাই আমরা সীমান্তে একটি হত্যাকাণ্ডও চাই না। এটা আমরা সমর্থনও করি না। আমরা সীমান্ত হত্যাকাণ্ড জিরোতে নামিয়ে আনার জন্য কাজ করছি। এজন্য আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় অতি উৎসাহী হয়ে বিএসএফ সদস্যরা এ ধরনের ঘটনা ঘটায়। এগুলো যাতে না তারা না ঘটায় সেজন্য দু’পক্ষে আলাপ আলোচনা চলছে।’

অনুষ্ঠানে পুলিশ বাহিনীতে হেলিকপ্টার সংযোজন প্রসঙ্গ উঠে এলে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস দ্রুত নির্মূলে আমরা পুলিশ বাহিনীতে হেলিকপ্টার সংযোজন করতে চাই। সেক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের যে রকম বরাদ্দ দেওয়া হবে, যে রকম টাকা ছাড় পাবো সেভাবেই হেলিকপ্টার কিনবো।’

অনুষ্ঠানে কোস্টগার্ডের জাহাজ কেনা ও জলসীমা পাহারা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জলসীমার পরিমাণ অনেক বেড়েছে। তাই এই সুবিস্তৃত জলসীমা পাহারা দেওয়া কোস্টগার্ডের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ । তাই সরকার কোস্টগার্ডের জন্য চারটি অত্যাধুনিক জাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ এ বছরেই আসছে। এগুলো কোস্টগার্ডের বহরে যুক্ত হবে। এ চারটি জাহাজ পেলে আমাদের কোস্টগার্ড আধুনিক হবে এবং বিশ্বের যে কোনও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে তা সমান তালে সমুদ্রসীমা পাহারা দিতে পারবে।’

বিএসআরএফ-এর সভাপতি শ্যামল সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা একেএম শামীম চৌধুরী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

/এসআই/টিএন/এসএনএইচ/