পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনি নুর চৌধুরীকে ফেরত আনার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা হয়।’
ওই সময় দুই প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন যে, নুর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর উপায় খুঁজে বের করার জন্য কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা হবে। তার ধারাবাহিকতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কানাডা যাচ্ছেন। তিনি ২৫ অক্টোবর কানাডা যাচ্ছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন ‘ট্রুডোকে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেছেন, নুর চৌধুরী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার ভাই শেখ কামালকে গুলি করেছিলেন। এটিই ছিল প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে নুর চৌধুরীকে ফেরত আনার বিষয়ে আলোচনা।’
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে ২০১২ সালে ও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ২০১৪ সালে নুরকে ফেরত আনার বিষয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, নুর চৌধুরী একজন সামরিক অফিসার। বঙ্গবন্ধুর ১২ খুনির একজন তিনি। যারা ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিলেন। নুর চৌধুরী ১৯৯৬ সাল থেকে কানাডায় রয়েছেন। বর্তমানে কোনও স্ট্যাটাস ছাড়াই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কানাডার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনও ব্যক্তিকে বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া তারা ফেরত পাঠাতে পারে না। টোরিস এলএলপি নামে একটি আইনি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ নিযুক্ত করেছে নুর চৌধুরীকে ফেরত আনার মামলা পরিচালনার জন্য।’ তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালে কানাডায় নুর চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন খারিজ হওয়ার পরে তিনি সেখানকার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে একটি আবেদন করে। গত ১০ বছরে সেটির কোনও সিদ্ধান্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস দেয়নি।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘‘১০ বছরেও যখন এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, তখন আশা করা যায়, আমরা যদি কানাডার কোর্টে তাকে ফেরত আনার মামলায় লড়ি, তবে ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ সুযোগ নিয়ে তাকে ফেরত আনার সুযোগ আছে।’’
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে নুর চৌধুরী বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। ১৯৭৬ সালে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আত্তীকরণ করা হয়।
নুর চৌধুরীর প্রথম পোস্টিং ছিল ব্রাসিলিয়া। পরবর্তী সময়ে তাকে আলজিরিয়া ও হংকংয়ে বদলি করা হয়। তার শেষ পোস্টিং ছিল হংকংয়ে। সেখানে মিনিস্টার হিসেবে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
হংকং থেকে ১৯৯৬ সালে সে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে একই বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডা প্রবেশ করেন।
২০০৬ সালে নুর চৌধুরীর কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তাকে কানাডা থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার একটি সুযোগ ছিল।
কানাডা সরকার ২০০৬ সালে নুরের কূটনৈতিক পাসপোর্ট অটোয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ফেরত দেয়। তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তারা যে ইতিবাচক, তা একটি চিঠির মাধ্যমে জানায়। ওই সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল চলছিল। সে কারণে তাকে ফেরত আনার বিষয়ে কোনও জোরালো উদ্যোগ ছিল না।
সরকারের নিস্পৃহতার সুযোগ নিয়ে নুর চৌধুরী কানাডার সবচেয়ে ভালো অভিবাসন আইনজীবী বারবারা জ্যাকসনের শরণাপন্ন হন। কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে ২০০৭-এর মাঝামাঝি তাকে ফেরত না পাঠানোর জন্য একটি আবেদন করেন।
নুর ‘প্রি রিমোভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ বিধির সুযোগ নিয়ে কানাডায় আছেন। তার আবেদনে বলা হয়েছে, তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। এখন পর্যন্ত ওই আবেদনের নিষ্পত্তি করেনি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস।
নুর চৌধুরী বর্তমানে টরেন্টো শহরে বাস করলেও তার সেখানে কোনও স্ট্যাটাস নেই। কানাডার সরকারের পক্ষ থেকে তিনি কোনও সুযোগ সুবিধাও পান না। এছাড়া তাকে নির্দিষ্ট সময় পরপর অভিবাসন অফিসে গিয়ে হাজিরাও দিতে হয়।
/এমএনএইচ/আপ-এনএস/