এর আগে মঙ্গলবার বিলটি সংসদে তোলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। পরে বিলটি পরীক্ষা করে একদিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিলে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসকরা নির্বাচন করতে চাইলে তাকে পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।
বিলে এছাড়া জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের শপথ নেওয়ার সময় তাদের পরিচিতির জন্য বাবা বা স্বামীর নামের সঙ্গে মায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইনে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাময়িক বরখাস্তের বিধান ছিল না। পাস হওয়া বিলে আদালত কর্তৃক চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়া সাপেক্ষে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রাখা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। বিলে সেই সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচন পরিচালনা এবং এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া বিধান রাখা হয়েছে।
বর্তমান আইনে জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনও প্রার্থী দুর্নীতি বা নির্বাচনি অপরাধ করলে সাত বছরের সাজার বিধান রয়েছে। পাস হওয়া বিলে এর সঙ্গে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান যোগ করার কথা বলা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে নির্বাচন সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সাব-জজ পদের কর্মকর্তার সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে ওই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে ‘যুগ্ম জেলা জজ’ রাখার বিধান রাখা হয়েছে।’
তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদ আইনটি ২০০০ সালে প্রণীত হয়। ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং জেলা পরিষদ ব্যতীত অন্য সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি উত্থাপিত হয়ে আসছে। নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা জেলা পরিষদগুলো পরিচালিত হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সফল বাস্তবায়ন হবে। বিদ্যমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে জেলা পরিষদ আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: পার্বত্য ভূমি কমিশন চেয়ারম্যানের ক্ষমতা কমিয়ে সংসদে বিল পাস
/ইএইচএস/এমএনএইচ/