অভিযোগ উঠেছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় বিলুপ্ত হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণের অনুমোদন পেয়েছে। বিলুপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ফলে বিদেশে গিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন প্রবাসী শ্রমিকরা। এছাড়া প্রশিক্ষণ বাবদ অর্থ আদায় করলেও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে সিঙ্গাপুরের ‘টাংকলীন উটামা প্রাইভেট লিমিটেড’ ও ‘ওয়েসিস সার্ভিসেস’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক নাজমুল হুদা মেহেদী যৌথভাবে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশে অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য ‘প্রগ্রেসিভ টেস্ট সেন্টার’ নামের প্রতিষ্ঠানটি গঠন করেন। যদিও কিছুদিন পরই সিঙ্গাপুরের টাংকলীন উটামা প্রাইভেট লিমিটেড তাদের শেয়ার তুলে নেয়। তখন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত হন সিঙ্গাপুরের নাগরিক ভিক্টর লী সিওং কী। ২০১২ সালের আগস্টে প্রগ্রেসিভ টেস্ট সেন্টার নামের প্রতিষ্ঠানটির যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতরে প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্তির আবেদন করে এবং বিলুপ্তির গেজেট প্রকাশ হয়।
প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সাল থেকেই সিঙ্গাপুরগামী অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায়। প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হওয়ার পরও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় প্রশিক্ষণের অনুমোদন পায়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ওয়েসিস সার্ভিসেস ও জিহান ওভারসিস লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরগামী অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের অনুমোদন দেয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিলুপ্ত হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি সিঙ্গাপুর গমন ইচ্ছুক অদক্ষ শ্রমিকদের অর্থ নিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
জানা গেছে, সাভারের আশুলিয়া প্রগ্রেসিভ টেস্ট সেন্টারের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেখানে ভবন নির্মান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় অদক্ষ শ্রমিকদের। সেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপক আবিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সাধারণত সিঙ্গাপুরে যেতে ইচ্ছুকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে।
বিলুপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রগ্রেসিভ টেস্ট সেন্টারের প্রশিক্ষণ উপদেষ্টা তারফি খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা যথাযথ নিয়ম মেনেই প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আছে কি নাই এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মেজর (অব.) তানিম হাসান বলতে পারবেন।’
প্রতিষ্ঠানটি চেয়ারম্যান মেজর (অব.) তানিম হাসানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তার ম্যানেজার মিলন বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান বৈধ, এটা নিয়ে মাতামাতির কোনও দরকার নেই।’
প্রগ্রেসিভ টেস্ট সেন্টারের সহযোগি প্রতিষ্ঠান ওয়েসিস সার্ভিসের স্বত্ত্বাধিকারী নাজমুল হুদা মেহেদী বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই কোনও ব্যবসা নাই। আমার হাতে কোনও কাজ নেই। আপাতত আমি কোনও লোক পাঠানোর কাজ করি না। আমি কাউকে চিনিও না, আমাকে বিরক্ত করবেন না।’
রিক্রুট এজেন্সি ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট)। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট) মো. শাহনেওয়াজ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, অল্প কিছু দিন হয়েছে আমি এ পদে এসেছি। আগে যিনি এ দায়িত্বে ছিলেন তিনি হয়ত ভালো বলতে পারতেন। তবে এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিবো, কোনও অনিয়ম থাকলে ব্যবস্থা নেব।’
এর আগে এই পদে (মনিটরিং ও এনর্ফোনমেন্ট) দায়িত্বে ছিলেন মো. আকরাম হোসেন। যিনি বর্তমানে যুগ্ম সচিব (বাজেট ও সেবা) দায়িত্বে আছেন। এ বিষয় জানতে চাইলে মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সাল থেকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বৈধ বলেই তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে আমি এখন আর এই পদে নেই (যুগ্ম সচিব- মনিটরিং ও এনর্ফোনমেন্ট)। যিনি আছেন তিনি ভালো বলতে পারবেন।’
বিলুপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিলে প্রবাসে গিয়ে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশিক্ষণ) মো. সুজায়েত উল্যা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন না থাকলে সেটি বৈধ নয়। অবৈধ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলে কর্মীদের নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তারা সঠিক মজুরি থেকে বঞ্চিত হতে পারে।’