এবার 'ফাঁস হয়নি' মেডিক্যাল ভর্তির প্রশ্ন

মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা

সরকার কঠোর নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় এবার মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও  অভিভাবকরা।  

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণেই এবার প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ছিল।

শুক্রবার (৭ অক্টোবর) মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৯০ হাজার ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী।

সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং মেধাবীরাই এখানে সুযোগ পাবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা.মো আব্দুর রশীদ বলেন, ‘সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোথাও প্রশ্নফাঁসের কোনও খবর আমরা পাইনি।’

কাশফিয়া নাজনীন নামের এক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। আমরা এখনও তেমনকিছু জানতে পারিনি।’

মাহবুবা রহমান নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘যুদ্ধ করে করে আজ এপর্যন্ত এসেছি। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্তও খোঁজ নিয়েছি, এবছর প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে কিনা।’

মোহাম্মদপুরের মমতাজ বেগম বলেন, ‘রাতের পর রাত  মেয়েটাই কেবল জাগেনি, সঙ্গে আমি আর ওর বাবাও বসে থাকতাম। এখন মেয়েকে হলে পাঠিয়ে দোয়া পড়ছি। প্রশ্ন ফাঁস না হওয়ায়  সরকারকে ধন্যবাদ।’

তবে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার জন্য স্থাপিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে ৪/৫টি অভিযোগ এসেছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে অধিদফতরের মহাপরিচালক  অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে তা ভিত্তিহীন।

দেশে ৬৪টি সরকারি-বেসরকারি এবং আর্মস ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ৬টি। এসব মেডিক্যাল কলেজের আসন সংখ্যা ৯ হাজার ৬৭৯টি। এবার সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ২৮ জন।

/জেএ/এসটি/এপিএইচ/