গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর ১০০ দিন পার হলেও রোস্তারাঁটি এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া প্রহরা ও নজরদারিতে রয়েছে। রেস্তোরাঁয় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। তদন্তের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং পরিদর্শনের জন্য পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশি নাগরিকেরা সেখানে প্রবেশ করতে পারেন। আলমত যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও বহাল রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৭৯ নম্বর সড়কে এখনও থমথমে পরিবেশ। সড়কের মুখেই রয়েছে একটি ব্যারিকেড। ১ জুলাই হামলার পরপর পুলিশ সড়কের মুখে একটি এবং ভেতরে আরেকটি ব্যারিকেড দেয়। প্রথম ব্যারিকেডে টানানো রয়েছে দুটি ব্যানার। প্রথম ব্যারিকেড পেরিয়ে ৭৯ নম্বর সড়কের শেষ মাথায় যেতেই পরিবেশ আরও ভারি হতে থাকে। সড়কের দুপাশে অনেকগুলো আবাসিক বাড়ি থাকলেও চারপাশ সুনসান নীরবতা। কোনও সাড়া শব্দ নেই। কেউ বাসা থেকে বের হলেও দ্রুত চলে যাচ্ছেন। বেকারির দিকে কেউ তাকাচ্ছেন না। কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি।
এসআই ফেরদাউস হলি আর্টিজানের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতেও রাজি হলেন না। এরপর হাঁটতে হাঁটতে প্রধান ফটকের সামনে থেকে ৭৫ নম্বর সড়কের দিকে আসতে আসতে তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারায় রাখা হয়। ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এখানে আলামত রয়েছে। আমরা শুধু দায়িত্ব পালন করি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এখানে আসেন কিছুক্ষণ পরপর।’
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মানুষ এখানে আসলে আমরা তাদের বুঝিয়ে বলি, ‘এখানে যাওয়া যাবে না। এর গুরুত্বটা তাদের বোঝানো হচ্ছে। সবাই কথা শুনছে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখে তারা চলে যান।’
হলি আর্টিজান বেকারির সর্বশেষ অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোশতাক আহমেদ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরো গুলশান এলাকাতেই জোরালো বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। পরে সেখানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ হামলাকারীসহ ছয়জন নিহত হয়। তার আগে সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা।
এই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তদন্ত করছে।
সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘এই হামলার জন্য দুবাই থেকে ১৪ লাখ টাকা পাঠানো হয়। আর অস্ত্র আসে ভারত থেকে। তবে অস্ত্রের গায়ে কোনও দেশের নাম লেখা নেই। তাই অস্ত্রটি কোন দেশের তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনার পর রাজধানীর কল্যাণপুর ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে যথাক্রমে ৯ ও ৩ জন জঙ্গি মারা যায়। এদের মধ্যে নব্য জেএমবির প্রধান তামিম চৌধুরী ছাড়াও নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার ও প্রশিক্ষক ছিল।
/এসটি/ এপিএইচ/