মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ী সুর

নবমীর দুপুরে কলাবাগান পূজামণ্ডপ

আর মাত্র একদিন। এরপরই দেবী দুর্গা ফিরে যাবেন শিবের ঘরে। অষ্টমীর পর থেকেই একটা বিদায়ী সুর যেন বাজে ভক্তদের মনে। মা আবার ফিরবেন। আর কতক্ষণই বা থাকবেন। মায়ের আসার জন্য যে তীব্র অপেক্ষা নিয়ে বসে থাকে সবাই, অষ্টমীর পর থেকেই শুরু হয় তাকে বিদায় জানানোর ক্ষণ গণনা।  

শাস্ত্রমতে, দেবী দুর্গা এবার পিতৃগৃহে এসেছিলেন ঘোড়ায় চড়ে। ফিরবেনও ঘোড়ায় চড়েই। মঙ্গলবার ভক্তদের চোখের জলে বিদায় নেবেন তিনি। তার প্রস্তুতিই যেন দেখা গেল সবখানে।

সোমবার দিনব্যাপী মণ্ডপে মণ্ডপে শেষবার দেবী দুর্গার সান্নিধ্য পেতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনাগোনা চলছে। ঠাকুর প্রণামের সঙ্গে সঙ্গে আগামীকাল মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর পরিকল্পনা করে দিন কাটাচ্ছেন তরুণ তরুণীরা। মণ্ডপের আশেপাশে দীর্ঘ সময় ধরে চলছে আড্ডা।

কলাবাগান মাঠে গিয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা হয় একটি গ্রুপের। ১৫ জন বন্ধুবান্ধব মিলে সাত সকালে বের হয়েছেন। সন্ধ্যে পযন্ত চলবে বিভিন্ন মণ্ডপ গিয়ে দেবী দর্শন। এদেরই একজন স্বাগতা। তিনি বলেন, ‘সন্ধি পূজোটা হয়ে গেলেই বুকের ভেতরটা হাহাকার দিয়ে ওঠে। মহানবমী এসে গেল। মানেই তো মায়ের চলে যাওয়া। আজ সারাদিন বন্ধুদের সঙ্গে কেবল ঘুরবো। এসময়টা পরিবার থেকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়, পড়ালেখা করতে হয় না, সব বন্ধুরা দীর্ঘসময় একসঙ্গে ঘুরতে পারি।’

রাজধানীর একটি পূজামণ্ডপ

রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে মহানবমীতে দেবী দুর্গার পূজা দেওয়া হয় সকাল সোয়া ৭টায়। এছাড়া প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যায় মণ্ডপে মণ্ডপে আরতি প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। চলছে চণ্ডীপাঠ।

শত মন খারাপের মধ্যেও শেষ দিনের মহানন্দ যতটা নেওয়া যায়, মায়ের পায়ে অঞ্জলি দেওয়ার সুযোগ আবার কবে হবে, এসব নিয়ে আছেন বাড়ির বড়রা। নবমী পূজার মাধ্যমে মর্তের সন্তানরা সুখে থাকার জন্য সম্পদ লাভ করেন বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। এদিন মহাসমারোহে ভক্তরা দেবীর আশীর্বাদ নেন।

বিসর্জন সুর বাজতে থাকা নবমী সবার মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়াবে এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার পাল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নিরাপত্তার বিষয়টি খুব ভালোভাবে সম্পন্ন করা গেছে। মা আবার ফিরবেন আমাদের মধ্যে। আজ আর কাল মণ্ডপগুলোতে উপচে পড়া ভিড় থাকবে। শেষবার মায়ের দেখা পেতে সবাই আসবেন, সেটা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’

/ইউআই/এসটি/টিএন/

আরও পড়ুন: গুলশান হামলার তদন্তের ১০০ দিন