সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার চাপাতির কোপে মারাত্মক আহত খাদিজা আক্তার নার্গিস নিজেই শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেন কিনা, সেটা জানা যাবে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে।চিকিৎসকরা এমনটাই জানিয়েছেন নার্গিসের পরিবারকে। মঙ্গলবার স্কয়ার হাসপাতালে বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান নার্গিসের মামা আব্দুল বাসেত।
স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা নার্গিসের সঙ্গে এখন তার মামা আব্দুল বাসেত ও চাচা আব্দুল কুদ্দুস রয়েছেন। আব্দুল বাসেত বলেন, আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১১টার পরে নার্গিসের চিকিৎসক স্কয়ার হাসপাতালের নিউরো সার্জন এ এম রেজাউস সাত্তার তাদেরকে জানিয়েছেন,আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নার্গিসকে লাইফ সাপোর্ট থেকে বের করার চেষ্টা করবেন চিকিৎসকরা।যদি নার্গিস কৃত্রিম সাহায্য ছাড়াই শ্বাস নিতে পারেন, তাহলে তাকে সেভাবেই রাখা হবে।’
সোমবার নার্গিসের গলায় অক্সিজেনের নল (প্যাসেকটমি) স্থাপন করা হয়। পর্যায়ক্রমে নার্গিসকে লাইফ সার্পোট থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের কনসালটেন্ট এবং হাসপাতালটির অ্যাসোসিয়েট মেডিক্যাল ডিরেক্টর মির্জা নাজিম উদ্দীন। তিনি আরও জানান, ‘মুখ থেকে অক্সিজেনের নল খুলে নার্গিসের গলার সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।’
আপনারা নার্গিসকে দেখতে যেতে পারেন কিনা জানতে চাইলে নার্গিসের চাচা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আইসিইউতে রোগী দেখায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নার্গিসের বিষয়টি সেনসিটিভ হওয়াতে আমরা দিনে এক-দুইবার দেখতে যেতে পারি। আজও (মঙ্গলবার) মাগরিবের আগে ওকে দেখেই নামাজ পড়তে গিয়েছি। খোদার কাছে ওর প্রাণভিক্ষা চেয়েছি।’
আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসায় খুবই সন্তুষ্ট। নার্গিসের বিষয়ে যদি কখনও কিছু দরকার হয় তারা সেটা আমাদের জানায়, অনুমতি নেয়। তারা আমাদের অবহিত করে যে ওই চিকিৎসার ফলে তার কী কী হতে পারে। যদিও তাদেরকে আমরা জানিয়েছি, অনুমতি নেওয়ার কিছু নেই। নার্গিসের যখন যা দরকার হবে তারা অবশ্যই সেটা করতে পারবেন।’
নার্গিসকে চিকিৎসার জন্য তারা বিদেশ নিয়ে যেতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরে এ বিষয়ে তাদের মতামত নিয়ে ও সরকারের সহযোগিতার মাধ্যমে নার্গিসকে আমরা বিদেশ নিয়ে চিকিৎসা করাতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নার্গিসের সব দায়িত্ব নিয়েছেন, তাই মনে করি আমাদের চিন্তার কিছু নাই। উনিই সব করবেন। বলেন আব্দুল কুদ্দুস।
প্রসঙ্গত, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ৩ অক্টোবর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম সিলেট এমসি কলেজের পুকুর পাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনার পর প্রথমে নার্গিসকে সিলেটে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৪ অক্টোবর ভোরে তাকে ঢাকায় আনা হয়। এদিন দুপুরে স্কয়ার হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা তাকে ৯৬ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখেন।
৯৬ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ শেষে নার্গিসের অপারেশনকারী চিকিৎসক নিউরো সার্জন ডা.এ এম রেজাউস সাত্তার গত শনিবার সাংবাদিকদের জানান, ‘খাদিজার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়েছে। তার শরীর রেসপন্স করছে। আগে খাদিজার বাঁচার সম্ভাবনা ছিল ৫ শতাংশ, এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ১০ শতাংশ। সে যখন স্কয়ার হাসপাতালে আসে তখন তার চেতনাশক্তি ছিল নির্ণায়ক যন্ত্রে ১৫ মাত্রার মধ্যে ৬-এ, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ মাত্রার মধ্যে ৬ -এ।’
জেএ/ এপিএইচ/