ডিএসসিসির ওয়েস্টবিন প্রকল্প ব্যর্থ!

পান্থকুঞ্জের সামনে ওয়েস্টবিন নেই, আছে স্ট্যান্ড

পথচারীদের হাতে থাকা চিপস, চকোলেটের প্যাকেট, পলেথিন বা অন্যান্য জিনিসি ফেলতে গুলিস্তান পার্কের উত্তর-পূর্ব কোণের ফুটপাতে একটি স্টিলের ওয়েস্টবিন বসিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। অভ্যাস ও সচেতনতার অভাবে বেশিরভাগ পথচারীরা এসব জিনিস বিনে না ফেলে রাস্তায় ফেলেন। ওয়েস্টবিনলো নিয়মিত পরিস্কারও করা হয় না। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করায় গণপরিবহনের ধাক্কায় হেলে গেছে অনেক বিন। ফলে পুরো প্রকল্পটি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলেই অভিযোগ ওঠেছে।

শুধু গুলিস্তানেই নয়, নগরীর বেশিরভাগ ওয়েস্টবিনেরই  দুরবস্থা। কোনওটি হেলে পড়েছে, কোনওটিকে উল্টো করে রাখা হয়েছে। কোনওটির স্ট্যান্ড আছে কিন্তু বিন নেই। কোথাও কোথাও পুরো বিনই উধাও করে ফেলা হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পান্থপথে ভলকানাইজিংয়ের দোকানের টায়ার রাখা হয় ওয়েস্টবিন স্ট্যান্ডে। সেগুনবাগিচা হাইস্কুলের সামনের বিনটি উপুড় করে রাখা হয়েছে। মতিঝিল সোনালী ব্যাংকের উত্তর সীমানা সংলগ্ন ওয়েস্টবিন ঘিরে হকার তার মালামাল রেখেছে। যাত্রাবাড়ী ওয়াপদা কলোনির গেটে বিজিবি বাজারের দক্ষিণ দিকে সিএনজি স্টেশনের সামনের বিন ও স্ট্যান্ড উধাও হয়ে গেছে। একই অবস্থা দোলাইরপাড় ফ্লাইওভারের শেষ প্রান্তে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারের সামনের বিনেরও। পান্থকুঞ্জের পূর্বদিকে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতে থাকা ওয়েস্টবিনের স্ট্যান্ডটি পড়ে আছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ওয়েস্টবিনগুলোয় চিপসের প্যাকেট, বাদামের খোসা ও প্যাকেট, অন্যান্য শুকনো খাবারের প্যাকেট, সিগারেটের প্যাকেটের মতো শুকনো ময়লা ফেলার কথা। কিন্তু অনেকেই তা করছে না। এখানে পচাবাসী খাবার, ডাবের খোসা, নাড়িভুড়িসহ বিভিন্ন আবর্জনা এখানে ফেলে যাচ্ছে। ফলে এগুলো পরিষ্কার করতে চাইছে না পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।’

গুলিস্তান টি অ্যান্ড টি অফিসের সামনে

চলতি বছর এপ্রিলে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তার আওতাধীন এলাকায় ওয়েস্টবিন বসায়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০টি ওয়েস্টবিন বসানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বড় সাইজের বিন রয়েছে ১১৪০টি এবং ছোট সাইজের ৪৫৬০টি। প্রতিটি বিনের জন্য ব্যয় হয়েছে সাত থেকে ১২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এ কাজে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। যদিও এই ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কার্স লিমিটেড ওয়েস্টবিন তৈরির কাজ পেয়েছিল। কিন্তু কয়েক হাত ঘুরে ওয়েস্টবিন তৈরি হয়েছে পুরনো ঢাকার কয়েকটি কারখানায়। এ কারণে এগুলোর মানও ভাল না। রথি-মহারথিরা এর পেছনে জড়িত থাকায় কেউ মুখ খোলার সাহসও পায়নি।

অভিযোগ উঠেছে, ফুটপাতে ওয়েস্টবিন স্থাপন করেই দায়িত্ব শেষ করেছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এটি ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করতে কয়েকদিন প্রচারণা চালানো হলেও পরবর্তীতে তা থিতিয়ে যায়।

মতিঝিলে অব্যবহৃত ওয়েস্টবিন

ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এমকে বখতিয়ার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিএসসিসি এলাকায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫৭০০টি ওয়েস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। বড় সাইজের প্রতিটি বিনের দাম পড়েছে ১২ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের দাম ৭ হাজার টাকা। এগুলোর মধ্যে কিছু মিসিং হয়েছে, কিছু নষ্ট হয়েছে। আরও কিছু আছে ঠিক মত ব্যবহার হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আমরা স্টাডি করছি। কোনটার কী অবস্থা শিগগিরই জানতে পারবো। তখন প্রয়োজন অনুসারে প্রতিস্থাপন ও মেরামত করে দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু ওয়েস্টবিন স্থাপন সঠিকভাবে হয়নি। এ কারণ হল ঠিকাদার পরিকল্পিতভাবে স্থাপন করতে পারেনি। স্টাডি শেষ হলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’

3. Jatrabari BGB

কমোডর বখতিয়ার বলেন, ‘আসলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা না থাকলে কোনও কাজেই শতভাগ সফল হওয়া যায় না। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকায় আমাদের বিনগুলো খুব কাজে লাগছে। অফিসপাড়াতেও এর ভালো ব্যবহার হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: স্মার্ট কার্ড গ্রহণে ঢাকার ভোটারদের সাড়া কম

/এসটি/