রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের আমন্ত্রণে দু’দিনের সফরে কম্বোডিয়া থেকে আগামীকাল ঢাকা আসছেন শি জিন পিং। সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আঞ্চলিক শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
এ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য নতুন নীতির বিষয়ে সমঝোতা হবে। নতুন নীতিকে সহায়তা দিতে ২৫টিরও বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শি জিনপিং প্রস্তাবিত ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ উদ্যোগ নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে। কারণ উভয় দেশই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আঞ্চলিক ও এর বাইরে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের পক্ষে কাজ করতে চায়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এরমধ্যে ১৯ বিলিয়ন ডলারের ২৯টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছে। এ সফরে আরও প্রায় ৩০টি প্রকল্প নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে বলে সরকারের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ভবিষ্যতে আলোচনার আরও প্রায় ৩০টি প্রকল্পে মোট অর্থায়নের অংক বিশাল আকারের হবে বলে ধারণা দিয়েছে সূত্রগুলো।
চীনের প্রেসিডেন্টের সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও শি জিনপিং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রাজ্ঞ কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে গণচীন বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিরাজমান সম্পর্কগুলোকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়। আর এরই অংশ হিসেবে দীর্ঘ ত্রিশ বছর পরে এটাই গণচীনের কোনও প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের সাফল্য চীনের গভীর আস্থা অর্জন করেছে। এ কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে চীন এগিয়ে এসেছে।’
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ এবং ২০১৪ সালে চীন সফর করেন।
মাহমুদ আলী বলেন, ‘এ সফরের সময়ে ২৫টির অধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং এর ফলে দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি, ভৌত অবকাঠামো, সড়ক-সেতু, রেল যোগাযোগ ও জলপথ যোগাযোগ, সমুদ্র সম্পদ, দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সংযোজিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সফর বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের স্মারক এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে এক ঐতিহাসিক নবযাত্রার সূচনা করবে।’
এদিকে এ সপ্তাহের শুরুতে বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কং জুয়ানইউ বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশ বাংলাদেশ। এ সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি মাইলফলক।’ তিনি আরও বলেন, ‘শি জিনপিংয়ের কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ-ভারত সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কার্যক্রম। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা।’
শি জিনপিং তার ঢাকা সফরকালে শনিবার সাভার স্মৃতিসৌধে সম্মান জানানোর পরে ভারতে যাবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লি শিয়াননিয়ান ঢাকা সফর করেন। আর শি জিনপিং ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কা এবং ২০১৫ সালে পাকিস্তান সফর করেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশ্বস্ত অংশীদার চীন: শেখ হাসিনা
/এমএনএইচ/টিএন/