চীনের সড়কে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যাত্রা

চীনের ওয়ান রোড অ্যান্ড বেল্ট চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত বেল্ট ও রোড উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলো বাংলাদেশ। শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরকালে শুক্রবার দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ ৩৪টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। প্রায় ৭০টি দেশ সমর্থন দিয়েছে। এরমধ্যে কিছু দেশ আছে, যেসব দেশ বেল্ট ও রোড উদ্যোগের বাইরে ভৌগোলিক অবস্থানে আছে।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এর ফলে চীনের বেল্ট ও রোড উদ্যোগের জন্য রক্ষিত তহবিল থেকে বাংলাদেশ অর্থায়ন পাবে। এ তহবিলের পরিমাণ প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার।’ এর আগে ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মাদ আব্দুল হামিদ চীন সফর করেন। বেল্ট ও রোড উদ্যোগকে সমর্থন জানান।

শি জিনপিং সফর উপলক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। ঢাকা বিশ্বাস করে, এ উদ্যোগ  বাংলাদেশকে ২০২১ সালে মধ্যমআয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উচ্চআয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দেবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠার জন্য তাগিদ দেওয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়। দুই পক্ষ তাদের উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে সমন্বয়ের মাত্রা বাড়াবে, সহযোগিতার যে ক্ষেত্রগুলো আছে তার সম্ভাব্যতাকে বাস্তবে রূপ দেবে, বেল্ট ও রোড উদ্যোগে কাজ করবে। যেন টেকসই উন্নয়ন এবং দু’দেশের  সবার সমৃদ্ধি হয়।

২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কাজাখস্থানে এক ভাষণে তার ভিশনারি ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড উদ্যোগের বিষয় প্রথম জানান।

ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড উদ্যোগটি নতুন কোনও বিষয় নয়। প্রাচীনকালে চীনের ব্যবসায়ীরা এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সিল্ক রুট দিয়ে ব্যবসা করতো। তার পুনরুত্থানই হচ্ছে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড।

প্রস্তাবিত এ রুটের মাধ্যমে ভূমি দিয়ে চীনের সঙ্গে এশিয়ার মধ্য দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। আবার সুমদ্রপথে চীনের সঙ্গে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড উদ্যোগের মাধ্যমে।

প্রস্তাবিত এ রুটটি কার্যকর করতে হলে খরচ হবে হাজার হাজার কোটি ডলার এবং এর সিংহভাগ চীন বহন করতে আগ্রহী।

আরও পড়ুন: চীনা স্বপ্নে ‘সোনার বাংলা’

/এমএনএইচ/