দুই কারণে ঢাকা ফাঁকা

আ. লীগের সম্মেলনের দিন ফাঁকা রাজপথআওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে শনিবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে অনেক স্থানেই। আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থলের আশপাশের বেশকিছু এলাকা বাদে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কের অনেকগুলোতেই যানজট ছিল না। হাতে গোনা গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলছে রাজপথে। কারণ হিসাবে জানা গেছে, যানজট এড়ানোর জন্য আগে থেকেই নগরীতে শনিবার গণপরিবহন না চালানোর চাপ ছিল। অন্যদিকে আতঙ্কে ব্যক্তিগত গাড়ি বের করেননি অনেকে। গণপরিবহন কম থাকায় অতি প্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন, রিকশা ও সিএনজিতে করে গন্তব্যে গেছেন তারা।

সাধারণত ব্যস্ত থাকে এমন কয়েকটি মোড়ে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা গেছে, কোনও সিগন্যালে গাড়ির তেমন চাপ নেই। ট্রাফিক পুলিশরাও ছিলেন ঢিলেঢালাভাবে।  আ. লীগের সম্মেলনের দিন ফাঁকা রাজপথ

রাজধানীর বনানী, কাকলী, মহাখালী, মিরপুর, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা রুটে গাড়ির তেমন চাপ নেই। একই চিত্র মিরপুর কাজীপাড়া, শেওরাপাড়া, বিজয় সরণি, মিরপুররোড, ফার্মগেট, বাংলামোটর ও তোপখানা রোডেও।

অপরদিকে সকালে গুলিস্তান, জিরোপয়েন্ট, ফকিরাপুল ও পল্টন এলাকায় গাড়ির চাপ থাকলেও দুপুর নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশার পাশাপাশি রিকশা চলতে দেখা গেছে। সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, টিকাটুলি হয়ে আসা গাড়ির চাপও দেখা যায়নি।আ. লীগের সম্মেলনের দিন ফাঁকা রাজপথ

গণপরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছে, গাড়িতে যাত্রী পাচ্ছেন না। তাই তারা গাড়ি আজ চালাচ্ছে না। কোথাও কোথাও গাড়ি বের হলেও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা গাড়িতে উঠে সম্মেলন স্থলের দিকে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। তাই তারা গাড়ি চালাবেন না আজ।

মোহাম্মদপুর থেকে ছেড়ে আসা স্বাধীন পরিবহনের মিনিবাস ফার্মগেট-মগবাজার হয়ে বাসাবো যায়। এর একটি গাড়ির চালকের সহকারী সুমন জানান, সকালে কয়েক দফায় তাদের কয়েকটি গাড়িকে জোর করে সম্মেলনস্থলের দিকে নিয়ে যায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তাই আজকে তারা গাড়ি বের করছেন না।আ. লীগের সম্মেলনের দিন ফাঁকা রাজপথ

অভিযোগ রয়েছে, আজ বাস মালিকদের গাড়ি বের না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। যাতে রাজধানীতে যানজট না হয়। সম্মেলনের কারণে মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে এমন চিত্র এড়ানোর জন্য গাড়ি চালাতে চালকদের নিরুৎসাহী করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বেশকিছু সড়কে ডাইভারশন চলছে। তাই কিছু সড়কে গাড়ি কম দেখা যাচ্ছে। তবে অন্যান্য সড়কে গাড়ি চলছে। গাড়ি না চালানোর অভিযোগ সত্য না। এমন কোনও নির্দেশনা নেই। এটা প্রপাগান্ডা।’

তিনি বলেন, ‘গাড়িতে যাত্রী হচ্ছে না সকাল থেকে। তাই চালকরাও একটু নিরুৎসাহী হচ্ছেন। যাত্রী না হলে গাড়ি চালিয়ে তো লাভ নেই।’গণপরিবহনের জন্য যাত্রীদের ভোগান্তি

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক-উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার উত্তর বিভাগে কোনও যানজট নেই। গাড়ির চাপ কম। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল ডাইভারশন দিলেও তা বেলা ১১ টার দিকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক।’

ভোর ৫টা থেকে ফার্মগেটে ট্রাফিক পুলিশ মো. সেলিম দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে কোনও গাড়ি ছিল না। ১২ টার পর অল্প অল্প করে গাড়ি চলছে। আজ কোনও গাড়ির চাপ নেই।’

ডিএমপির ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মো. মফিজ উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজকে ছুটিরদিন তাই গাড়ির চাপ কম। সাধারণ মানুষও তেমন আজ বের হয়নি। আমরা সবগুলো সড়কের ডাইভারশন তুলে নিয়েছি। তবে মৎস্যভবন থেকে শাহবাগ সড়কটুকু এখনও ডাইভারশন দিয়ে চালানো হচ্ছে। তবে সেখানেও গাড়ির চাপ নেই।’

আরও পড়ুন-

আ. লীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের আশায় বুক বেঁধেছে তরুণরা 

কী হবে সেটা নেত্রী আর আমি জানি: আশরাফ

শেখ হাসিনার দিকেই তাকিয়ে কাউন্সিলররা

বিএনপির নিবিড় পর্যবেক্ষণে আ.লীগের জাতীয় সম্মেলন

সেলফি না তোলার আহ্বান নেতাকর্মীদের

/এআরআর/এফএস/টিএন/