র্যাগিংয়ের বিরোধিতা করায় এক ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের এক ছাত্রী। নির্যাতনের বিচার চেয়ে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম প্রীতি। তিনি চারুকলা বিভাগের ৪৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। এছাড়া অন্তত আট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ এনেছেন প্রীতি।
এদিকে প্রীতির বিরুদ্ধে ‘বিশ্ববিদ্যালয় বিরুদ্ধে অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ এনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রীতিকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণার দাবি জানান বক্তারা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অক্টোবর। ওইদিন ‘উইমেন চ্যাপ্টার’ নামক একটি ওয়েবসাইটে নিজ নামে মানসিকভাবে নির্যাতিত হওয়ার কথা লেখেন প্রীতি। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮০ হাজারের বেশি পাঠক লেখাটি পড়েছেন। লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। টক অব দ্যা ক্যাম্পাসে পরিণত হয় বিষয়টি। প্রীতির লেখাকে কেন্দ্র করে এর পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। অনেকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ আনেন। কেউ কেউ আবার প্রীতির পক্ষে অবস্থান নেন।
প্রীতির অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর রাতে প্রীতিলতা হল প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রীদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি র্যাগিং বন্ধে হল প্রশাসনকে অনুরোধ জানান। সভা শেষে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি স্বপ্না আক্তার (ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ, ৪০ তম আবর্তন) প্রীতিকে তিনতলায় গণরুমের পাশের কক্ষে ডাকেন। র্যাগিংয়ের প্রতিবাদ করায় সেখানে তিনি প্রীতিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং হুমকি দেন।
এই ঘটনা এবং আরও কিছু অসংগতি তুলে ধরে প্রীতি ‘উইমেন চ্যাপ্টারে’ লেখেন। মূলত লেখাটি ভাইরাল হলে এর পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
প্রীতির ওই লেখাকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার’ দাবি করে শনিবার দুপুরে মহুয়া তলায় মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে প্রীতিলতা হলসহ অন্যান্য হল ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪৪ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, ‘ওই ছাত্রী যদি সত্যি সত্যি র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে থাকে তবে তার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। র্যাগিং করে কেউ পার পায়নি। তার উচিৎ ছিল প্রপার চ্যানেলে অভিযোগ করে বিচার চাওয়া।’
প্রীতিলতা হলের ৪৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী অন্তরা বলেন, ‘প্রীতি অধিকাংশ সময় অসুস্থ থাকতো। তাকে র্যাগ দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের চোখে পড়েনি।’
প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট কৌশিক সাহা বলেন, উপাচার্য ওই ছাত্রীর অভিযোগটি আমার কাছে ফরোয়ার্ড করে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসনের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
/এমপি/