দলকে শক্তিশালী করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: ওবায়দুল কাদের

ওবায়দুল কাদের 

দলকে শক্তিশালী করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘সরকার দলকে গতিশীল, আধুনিক ও স্বচ্ছ রূপ দিতে চায়। সরকার শক্তিশালী। তবে দল যদি দুর্বল হয় তাহলে উন্নয়ন এগোবে না। সেজন্য সরকারের সঙ্গে দলকেও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলা আমার চ্যালেঞ্জ।’

রবিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। বিএসআরএফ’র কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সংলাপে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি শ্যামল সরকার, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সময় মতো পদ্মা সেতু চালু হবে। আমাদের যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সক্ষমতা আছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশেকে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। আমাদের সরকার যতটা শক্তিশালী, দলকেও আমরা ততটাই শক্তিশালী করতে চায়। তাহলেই উন্নয়ন গতি পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ একেবারে থেমে গেছে বলে মনে করার কোনও কারণ নেই। এই আত্মতুষ্টিতে আমরা ভুগি না। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপানের মতো দেশে এ ধরনের হামলা হচ্ছে সেখানে আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগা উচিত নয়। তবে এটা মোকাবিলা করার প্রস্তুতি আমরা রাখছি। এটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় নীরবতা বড় ধরনের ঝড়ের পূর্ব লক্ষণ।’

নব নির্বাচিত এ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ মোকাবিলা করতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য পরবর্তী প্রজন্ম এবং পরবর্তী নির্বাচন। এক্ষেত্রে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার পরবর্তী প্রজন্ম। চমৎকার একটি আধুনিক রাষ্ট্র পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তৈরি করতে চাই। আমাদের এবারের সম্মেলনে এটিকেই আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমরা পাঁচদিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলের কমিটি করেছি। সম্মেলনের পর নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কমিটিতে আমরা সব অঞ্চলের তৃণমূলকে কভার করেছি। আমাদের প্রথম প্রেসিডিয়াম মেম্বারদের বৈঠকে যশোরের পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য বলেছেন, সবাইতো আমার ঠিকানা ভুলেগিয়েছিল। সেখানে আপনারা আমাকে কিভাবে টেনে আনলেন। পাঁচদিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন বাংলাদেশের অনাগত রাজনীতির মডেল।

সরকার থেকে দলকে আদালা করার কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নব কমিটিতে সে প্রয়াস তো আছেই। আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন অনেক মন্ত্রী দলের সম্পাদকমণ্ডলীতে নেই, আমরাতাদেররাখিনি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারে নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা পরিষ্কার বলা আছে। সেভাবেই নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। সেটি তো রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার, এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। সেখানে কোনও সমস্যা হবেনা। আশা করছি বিএনপিরও হবে না। তারা এত ভয় পাচ্ছে কেন? সেটি তো আমি বুঝি না। তারা ভয়কে জয় করতে জানেনা। তারা আন্দোলনেও পারেনি, নির্বাচনেও পারেনি। এতো বড়দল ৫০০ লোকের মিছিল করতে পারে না। এটি কী করে সম্ভব?  আমরা তো ২০ জন নিয়েও রাসেল স্কয়ারে অবস্থান করেছি, মিছিল করেছি, সমাবেশ করেছি। আমাদের প্রয়াত নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের কথা খুব মনে পড়ে। একজন কর্মীকে পুলিশ গাড়িতে তুলেছিল। তার প্রতিবাদে তিনিও গাড়িতে উঠে বসেছিলেন। পুলিশ বলেছিল, স্যার আপনি নেমে যান। আপনাকে নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আছে উপরের। জবাবে আব্দুস সামাদ আজাদ বলেছিলেন, আমার কর্মীকে না নিয়ে আমি গাড়ি থেকে নামবো না। এটার আমার উপরের নির্দেশ। এই হচ্ছে আন্দোলন। বিএনপিকে তো আমি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি না। দুর্বল মনে করি না। দেশবাসীও আমাদের একই প্রশ্ন বিএনপি ভয়কে জয় করতে পারে না।

নির্বাচনের আগে কোনও সংলাপ হবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণতন্ত্র বিশ্বাস করবো, সংলাপকে বিশ্বাস করবো না এটি তো হতে পারে না। সংলাপ আমিও চাই, প্রয়োজন হলে সংলাপ করবো। তবে এ মুহূর্তে সংলাপের কোনও প্রয়োজন নেই। জাতীয় ইস্যু তৈরি হলে অবশ্যই সংলাপ হবে। সংলাপ করার উদাহরণ তো আমাদের সামনে রয়েছে। জাতীয় প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সংলাপের জন্য খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তিনি তো আসেননি। কোকোর মৃত্যুতে দেশের প্রধানমন্ত্রী শোক জানাতে গিয়েছিলেন, দরজা তো খোলেননি। এ মুহূর্তে সংলাপের প্রয়োজন নেই।’

জাতীয় পার্টিকে নিয়ে কিভাবে বিরোধী দল গড়লেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে এমনটি তো হতো না। জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকায় বসতে পারতো না। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তারা ভুল করেছেন। তারা নিজেরা নিজেদের বিরোধী দলের ভূমিকার পদ হারিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা আছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সম্মেলনে ৫,৫৭০ জন কাউন্সিলরের সর্ব সম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। একেই বলে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র। এছাড়া সব প্রেসিডিয়াম সদস্যের মতামত নিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেছি। কাজেই আওয়ামী লীগ দলের ভেতর গণতন্ত্র চর্চা করে।’

মন্ত্রীত্বের পাশাপাশি আপনি দলের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠেন। আমি তাকে ফলো করি। আমিও সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠি। বেলা ১০টার পর আমার আর কোনও কাজ থাকে না। প্রধানমন্ত্রী আমাকে আরও কাজ দিলে আমি তা করতে পারবো।’

মেট্রোরেলের কাজ কতদূর এগিয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেলের কাজ এগিয়ে চলছে।’

দলকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে কি কি সমস্যা আছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে বিভিন্ন সমস্যা আছে। দলে আবর্জনা জঞ্জাল ঢুকে পড়েছে। কোথাও শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। আমরা তাদের কড়া নোটিশ দিয়েছি। অপকর্ম, পার্টির শৃঙ্খলা ও যারা পার্টির সুনাম নষ্ট করে তারা সংশোধন না হলে আগামীতে মনোনয়ন পেতে বেগ পেতে হবে।’

বিএনপি নির্বাচনে না আসলে কি হবে- এমন এক প্রশ্নের জাবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে এবং ভালো ভাবেই আসবে। তারা আর ভুল করবে না। অনেকের তো ক্ষমতা হারিয়ে ঘুম হারাম  হয়ে গেছে। নির্বাচনে না এলে আবারও চোরাবালিতে হারিয়ে যাবে তারা। বিএনপি কি চায় না তারা দেশ পরিচালনা করুক?’

আপনাকে যদি মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তবে আপনি কোনটা উপভোগ করবেন-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। যে পারে সবই পারে। আমি রাস্তা দেখতে গেলে আওয়ামী লীগকে দেখবো। আর আওয়ামী লীগকে দেখলেই রাস্তা দেখবো।’

আরও পড়ুন: ‘আমি বিএনপিকে দুর্বল মনে করি না’

‘নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী’

/এসআই/এসএনএইচ/এসটি/