বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিল অধিবেশনে গেলে তাকে অপমান করা হতো বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। সোমবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডির) ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, 'খালেদা জিয়ার আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ অনেকেই বলছেন ভুল ছিল, কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে একমত নই। এই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কাউন্সিলে গেলে তাকে (খালেদা) কোনও কথা বলতে দেওয়া হত না। এমনকি তার বসার জন্য নির্দিষ্ট কোনও চেয়ারও হয়তো থাকতো না। তাকে এভাবে অপমান করা হত।’
কাউন্সিলের সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, 'জাঁকজমকপূর্ণ কাউন্সিল হয়েছে। স্বাধীনতায় আমাদের কোনও অবদান হয়তো নেই, তার জন্য আমরা দাওয়াত পাইনি, এতে আমাদের কোনও দুঃখ নেই। কিন্তু বি চৌধুরীর ( সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী) মতো একজন প্রবীণ লোককেও দাওয়াত করে কোনও কথা বলতে দেওয়া হয়নি এটি কেমন আচরণ?’
তিনি মন্তব্য করেন, ‘এটি একটি ব্যর্থ কাউন্সিল, এর মতো ব্যর্থ কাউন্সিল পৃথিবীর কোথাও হয়নি, ভবিষ্যতে হবেও না।’
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডির) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, 'বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিদেশিরা প্রতিষ্ঠা করবে না, এজন্য আমাদেরকেই লড়াই করতে হবে।’
রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, 'সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে রামপাল থেকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দূরে সরিয়ে নিতে হবে। চেরনোবিলের মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানোর স্বার্থে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।
/আরএআর/টিএন/