‘একটু সুযোগ করা দেওয়া গেলে যুব সমাজ সফল হতে পারবে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের যুব সমাজকে একটু সুযোগ করা দেওয়া গেলে তারা সফল হতে পারে। আন্দোলন-সংগ্রামেও বহু যুবক জীবন দিয়ে এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। যুব সমাজের মননে যে সৃষ্টিশীলতা আছে তা বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে আমরা উন্নত-আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে পারবো।’

মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব জেলায় যুবকদের একই ধরণের প্রশিক্ষণ অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে যাচ্ছি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করছি। প্রশিক্ষণ পেয়ে যেন তারা স্বাবলম্বী হতে পারে তার জন্য আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদাণ, ঋণ সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে মানবসম্পদে পরিণত করতে চাই। সেভাবেই আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। দেশে যে কর্মমূখী শিক্ষার প্রসার ব্যাপকভাবে হচ্ছে তার ফলে আমরা যে নতুন শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছি সেখানে ভোকেশনাল ট্রেনিংকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘যুবকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সচেতনতামূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমাদের যুবকরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করছি। একটা বিশেষ ব্যাংক আমরা তৈরি করে দিয়েছি। আমরা নিজস্ব চিন্তা থেকে কর্মসংস্থান ব্যাংক করেছি। কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে একজন যুবক বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবে। বিনা জামানতেও ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন বিভিন্ন ধরণের শিল্প গড়ে উঠছে। সেখানে আমাদের কর্মীর অভাব আছে। কোন কোন ধরণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতে পারে সেগুলো মাথায় রেখে আমরা নতুন নতুন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। পাশাপাশি স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণকে আরও উন্নতমানের করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

বিনা প্রশিক্ষণে কেউ বিদেশে যেতে পারবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কে, কোথায়, কোন কাজে যাচ্ছে সেটাও যেন আমরা খবর পাই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া অকাল মৃত্যু যেন না হয়। বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে আমরা ঋণ দিচ্ছি। কোথায় যাচ্ছে, সেখানে কাজ আছে কী না, কোনও ধোকা দিয়ে পাঠানো হচ্ছে কী না- সে ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের কাজ আমরা করছি। কারও কথায় প্ররোচিত হয়ে নিজের জীবনকে কেউ ঝুঁকিতে যাতে না ফেলে সেটাই আমরা চাই।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ভেতরেই আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি। বাংলাদেশে বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হচ্ছে। ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল আমরা করে দিচ্ছি। তার জন্য আমাদের দক্ষ কর্মী দরকার।আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে যুব সংগঠন নিবন্ধনের ক্ষমতা প্রদান করে আইন প্রণয়নের কাজ আমরা শুরু করেছি। আমরা চাই না আমাদের যুব সমাজ বিপথে চলে যাক। বাবা-মায়ের জন্য দুঃখের কারণ হোক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকাসক্ত, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, উগ্রপন্থা-এর থেকে যুব সমাজকে বিরত থাকতে হবে। এসব বেহেস্ত আর স্বর্গেও নিয়ে যাবে না, হুর-পরীও দেবে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে মানুষ খুন করার কোনও অধিকার দেওয়া নাই।’

যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাদক, জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস এ ধরণের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে নিজের মেধা-শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের জীবনকে ও পরিবারকে উন্নত করা যাবে। ফলে আমাদের দেশটাও উন্নত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুব উন্নয়ন নীতিমালা গ্রহণ করছি। বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। গালি দেবে, ভিক্ষুক বলবে। সেই ভিক্ষার হাত পেতে পেতে আমাদের চলতে হবে। আমরা সেই বাংলাদেশ দেখতে চাই না। যুব সমাজকে মনে রাখতে হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে চলতে চাই। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশ।’  

অনুষ্ঠানে যুব সংগঠকদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন-

মধ্য নভেম্বরে জেলা পরিষদ ও নাসিক নির্বাচনের তফসিল

আহলে সুন্নাতকে প্রতিবাদ সভার অনুমতি দিয়ে মাঠে ছিল না প্রশাসন!

/পিএইচসি/এফএস/