নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ৩১ (ক) ধারার কোনও প্রয়োগ আছে কিনা এবং সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ আগে নিয়েছেন কিনা তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে একমাসের মধ্যে আইন সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে ব্যাখ্যাসহ একটি প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মিলাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি মামলা হয়। ওই দিনই আটক হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। গত বছরের শেষের দিকে মামলাটি চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিচারের জন্য যায়। এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয় চলতি বছর ২১ মার্চ। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই মামলায় কোনও সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হননি।
যদিও যে আইনে মামলা হয়েছে সে আইনের ৩১ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনও মামলা এই আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে ট্রাইব্যুনাল তার কারণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের কাছে দাখিল করতে হবে। যার একটি অনুলিপি সরকারের কাছেও দাখিল করতে হবে। প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর যথাযথ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
আইনজীবী কুমার দেবুল দে জানান, এ আইনে চট্টগ্রামে একটি মামলা হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় আসামি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
তিনি আরও বলেন, ‘মামলাটি আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওই আসামির পক্ষে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। সেই শুনানির সময় আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ৩১ (ক) ধারাটি আদালতের নজরে আনি।’
/ইউআই/এসটি/