আধুনিক পদ্ধতিতে ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে: ভূমিমন্ত্রী

ভূমি সংস্কার বোর্ড ও এ-টু-আই এর মধ্যে এক সমঝোতায় সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা

দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতাকে দূর করে আধুনিক পদ্ধতিতে ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ।

বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসসমূহের অটোমেশন বিষয়ে কারিগরী ও প্রশিক্ষণগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ভূমি সংস্কার বোর্ড ও এ-টু-আই এর মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাখা বক্তব্যে মন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, অনেকে অন্যায়ভাবে একজনের মালিকানা জমি অন্যের নামে নিয়েছেন। আইনকে তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ব্যবহার করেছেন। এ কারণে ভূমির সঠিক সেবা মূল্যায়িত হয়নি। এবার দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতাকে দূর করে আধুনিক পদ্ধতিতে ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব জটিলতা নিরসনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তা হল আধুনিক উপায়ে ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা। এ সমঝোতা স্মারককে ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত মন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সহজীকরণের জন্যই সরকারের এ উদ্যোগ।

দেশব্যাপী সর্বক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন কাজের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

এরপর ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এ-টু-আই এর প্রকল্প পরিচালক কবীর বিন আনোয়ার চুক্তিতে সই করেন। ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মেছবাহ উল আলমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পসমূহ এটুআই ও আইসিটি বিভাগকে সম্পৃক্ত করে ল্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস ফ্রেমওয়ার্ক-(এলআইএসএফ) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর উদ্ভাবিত ভূমি সেবাকেন্দ্রিক সফটওয়্যারটি দেশব্যাপী ভূমি অফিসগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ সমঝোতা স্মারকটির উদ্বোধন হলো।

অনুষ্ঠানে জানান হয়, ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজেশনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান স্বত্বলিপি, খতিয়ান, রেকর্ড ও মৌজা ম্যাপসমূহ স্ক্যানিং ও আর্কাইভিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যেমন সার্ভার, কম্পিউটার, প্রিন্টিং প্রেস সংস্থাপনের কাজ চলছে।

আরও জানানো হয়, মিউটেশন প্রক্রিয়াকে সহজীকরণের জন্য এসি ল্যান্ড অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও জরিপ অফিসকে অনলাইনে সংযুক্ত করে সমন্বিত করে যশোরের মনিরামপুরে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভূমি আপিল সম্পর্কিত কার্যক্রম ওয়েবভিত্তিক করা হয়েছে। ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে সেবা প্রার্থীরা মামলার অবস্থা, কার্যক্রম পরবর্তী তারিখ জেনে নিতে পারছেন।

/ওএফ/এইচকে/