শনিবার দুপুরে রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’ত-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এছাড়া, আগামী ২৮ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী বলেন, ‘বিভিন্ন মসজিদের ওই মুনাফেকের গোষ্ঠী ইমামতির দায়িত্ব নিয়ে আছে। শুক্রবার জুমার দিনে তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা করে মানুষকে জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাব, প্রত্যেকটি মসজিদের ইমামের ডাটা আপনারা তৈরি করুন। তারা কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে দেখুন। যারা জুমার খুৎবার নামে ওয়াজ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে,ঈমান আকিদা ধ্বংস করছে, জঙ্গিবাদ ছড়াচ্ছে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পক্ষে কথা বলছে, তাদের ইমামতির দায়িত্ব থেকে যেন সরানো যায়। তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের মহাসচিব ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সাবেক সদস্য খন্দকার গোলাম মাওলা নকশেবন্দী বলেন, যদি বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে নির্বাচিত না হতো, আর যদি মওদুদীরা ক্ষমতার মধ্যে থাকতো, তাহলে এদেশের পীর মাশায়েখের খানকা, মাজারগুলো ধ্বংস করা হতো। ওরস মাহফিল বন্ধ করে দেওয়া হতো। আল্লাহর রহমতে মুক্তিযুদ্ধে চেতনার সরকার ক্ষমতায় আসার পরে দেশের ওলামায় কেরাম নির্বিঘ্নে তাদের ওয়াজ মাহফিল করতে পারছেন। পরিনিতি ভয়াবহ হবে, শুধু সরকার পতনের সঙ্গে আলেম, পীর মাশায়েখরাও এই জন্মভূমির মধ্যে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
খন্দকার গোলাম মাওলা নকশেবন্দী বলেন, কিছু কিছু কওমি মাদ্রাসার মধ্যে এই জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হচ্ছে। মুফতি হান্নান, রহমানি কোনও আলিয়া মাদ্রসায় পড়েনি, তারা জঙ্গিবাদের গুরু। যে সব কওমি মাদ্রাসায় জঙ্গি লালন পালন করা হয়, সেগুলোর ব্যাপারে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার আরও তৎপর হওয়া উচিত।
নাসিরনগরে হামলা প্রসঙ্গে খন্দকার গোলাম মাওলা নকশেবন্দী বলেন, নাসিরনগরে যে ঘটনা ঘটেছে, দেখা গেলো সেই হেফাজত খাটি সুন্নি জামাআ’তের নাম দিয়ে তারা উস্কানি দিয়ে এ কাজ করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে মওদুদীপন্থীরা জড়িত আছে।
সম্মেলনে কওমি সনদের সরকারের স্বীকৃতি না দিতেও সম্মেলনে বক্তারা দাবি জানান।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের সৈয়দ জাহান শাহ মোজাদ্দেদী আল আবেদী, শুকছড়ি দরবার শরীফের পীর সৈয়দ নাছেরুল হক চিশতী, অধ্যাপক ড.আতাউর রহমান মিয়াজী, ড.আবদুল্লাহ আল মারুফ, হাছান রেজা আল কাদেরী, হেলাল উদ্দীন আল কাদেরী, হাসনাইন আহমদ আল কাদেরী প্রমুখ।
/সিএ/এমএনএইচ/