ডাকাতি মামলায় এপিবিএন’র সদস্যসহ ৫ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড

কারাদণ্ডডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ঢাকার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) দুই সহকারী উপ-পরিদর্শক, দুই কনস্টেবল ও এক সাংবাদিককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসএম কুদ্দুস জামান কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামিদের উপস্থিতিতেই এ রায় দেন।

বিচারক অপর এক আসামি মো. নাজমুল হাসান মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেন। এছাড়া, দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, এপিবিএন-এর এএসআই  মো. আমিনুর ইসলাম ওরফে রানা, মো. শাহ আলম, কনস্টেবল রাধা বাবু ওরফে রাজ, মো. আশিকুল ইসলাম আশিক এবং সাপ্তাহিক মত প্রকাশের সাংবাদিক পাভেল মাহমুদ ওরফে তারেক মাহমুদ।

রায় ঘোষণার পর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. সাইফুল হোসেন ভূঁইয়ার সিঙ্গাপুর প্রবাসী মামা মো. শাহীন অন্য একজনের কাছে দুটি মোবাইল ফোন ও একশ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার দেন। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার সময় বাদী সেগুলো আনতে প্রাইভেটকার নিয়ে বিমানবন্দরে যান। এ সময় চালক রেলওয়ে স্টেশনের গাড়ি পার্কিং এলাকায় অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে  চালক  শাহ আলম মোবাইল ফোনে তাকে (সাইফুল) গাড়ি পার্কিং এলাকায় আসতে বলেন। বাদী এসে দেখেন তার গাড়ি ও ড্রাইভারও নেই। ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সাদা পোশাকে অস্ত্র, হ্যাণ্ডকাপ ও পরিচয়পত্র দেখিয়ে বাদীর হাতে থাকা মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে। এ সময় তারা বাদীকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয়। কিছুক্ষণ পর বাদী অন্য আরেকজনের ফোন থেকে ড্রাইভার শাহ আলমকে ফোন দেন। পরে ড্রাইভারও জানান, আসামিরা গাড়ির ভেতরে থাকা দুই লাখ ২০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে খিলক্ষেত এলাকায় নামিয়ে দিয়েছে। পরের দিন খিলক্ষেতের কসাই বাড়ি এলাকা থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।মামলা বাদী মো. সাইফুল হোসেন ভূঁইয়া ঢাকা রেলওয়ে থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মো. আলী আকবর গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ৬ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁশুলি খন্দকার আব্দুল মান্নান খানা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘এই মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। অভিযোগ প্রমাণ করতে পারায় আদালত এ রায় দিয়েছেন।’

আসামিদের আইনজীবী মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এ মামলার সঙ্গে আসামিরা সম্পৃক্ত ছিলেন না। এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।’

মামলার বাদী সাইফুল ইসলামের মামা বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মামলার রায়ে আমরা খুশি। আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।’

/এসআইটি/এসএনএইচ/এপিএইচ