সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার দুপুরে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এসময় তারা এ দাবি জানান।
অবরোধ কর্মসূচি থেকে ছয় দফা দাবি দিয়েছেন নাসিরনগরের শিক্ষার্থীরা। সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শাহবাগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে শাহবাগ মোড় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থী। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টা থেকে মানববন্ধন করেন তারা। দুপুরে তাদের সঙ্গে এই কর্মসূচিতে আরও কয়েকটি সংগঠনও যোগ দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর অন্যতম, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন সংখ্যালঘু কমিশন গঠন ও নাসিরনগরের বিচারবিভাগীয় তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
শাহবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা সকালে প্রেসক্লাবের সামনে ছিলো। সেখান থেকে শাহবাগে আসেন। কয়েকটি সড়ক একেবারে বন্ধ রয়েছে। তবে মাঝেমাঝে তাদের বুঝিয়ে কিছু সময়ের জন্য সড়কগুলো ছাড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ‘পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে এখনও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তারা সড়কেই অবস্থান করছেন। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
শাহবাগ মোড়ে অবরোধ চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের এমপি মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের কুশপুত্তলিকা পোড়ান প্রতিবাদকারীরা। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, মন্ত্রী ওই হামলার পেছনে ইন্ধন দিয়েছেন। তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে প্রতিবাদকারীরা।
প্রসঙ্গত, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ এনে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরের অন্তত ১৫টি মন্দির ও শতাধিক হিন্দুবাড়িতে হামলা হয়। এর পাঁচ দিন পর উপজেলা সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচটি ঘর ও একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় নাসিরনগর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় সন্দেহভাজন হামলাকারীদের অনেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
/এআরআর/এসটি/