হাসিনার দিল্লি সফরে অগ্রাধিকার পাবে পানি ইস্যু


বাংলাদেশ ও ভারতপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ভারত সফরের সময়ে বাংলাদেশ গঙ্গা ব্যারাজ, তিস্তা চুক্তি ও পানি ইস্যুতে জোর দেবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দিল্লি যাচ্ছেন।
এ সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক নভেম্বরের ৮ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত দিল্লি সফর করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয় শংকর এবং অন্যদের  সফর নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
সফরের এজেন্ডা কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।’
কার কার সঙ্গে তার আলোচনা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পানি সম্পদ ও নদী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সচিব শশী শেখরের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।’
বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীর ৫২টি ভারত থেকে প্রবাহিত এবং এর মধ্যে শুধুমাত্র গঙ্গা পানি চুক্তি ৩০ বছর মেয়াদের জন্য ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত হয়।

এছাড়া, ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারত তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর করার কথা থাকলেও পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রবল আপত্তির কারণে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কমকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিস্তা আমাদের অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত অবস্থায় আছে।

তিনি বলেন, এছাড়া আমরা গঙ্গা চুক্তি স্বাক্ষর করেছি এবং পানিও পাচ্ছি, কিন্তু এর সুষ্ঠু ব্যবহার হচ্ছেনা, এবং এ পানি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পতিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ গঙ্গার পানির সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়, এবং এ বিষয়ে গত মাসে ভারতের একটি টেকনিক্যাল দল বাংলাদেশ সফর করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়ে এ বিষয়ে একটি ঘোষণার জন্য বাংলাদেশ জোর দেবে বলে তিনি জানান।

২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময়ে ঘোষিত যৌথ ঘোষণায় গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।

এসএসজেড/ এপিএইচ/