বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সুপারিশ ও অনুমোদনের পর ইংরেজি ও বাংলা ১৪২২-১৪৩৩ সালের সমন্বিত ক্যালেন্ডার তৈরি করে পাঠিয়েছি। তবে এবছর তা চালু করা হচ্ছে না। আগামী বছর সংশোধিত নতুন ক্যালেন্ডার চালু করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিজি প্রেসে পাঠাবে ছাপার জন্য।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বাংলা একাডেমির ফাইল পেয়েছি। দেখে সময়মতোই সিদ্ধান্ত নেবো।’
বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি (২০১৬) বাংলা একাডেমির দ্বিতীয় সভায় সংশোধিত পঞ্জিকা সংশোধনের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। এ বছরই সংশোধিত বাংলা পঞ্জিকা ইংরেজি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সমন্বয় করে ছাপার কথা ছিল। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী বছর (ইংরেজি সাল ২০১৭) থেকেই এই বর্ষপঞ্জি চালু করা হবে।
বাংলা একাডেমির নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলা বর্ষপঞ্জির বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত প্রথম ছয়মাস ৩১ দিন, কার্তিক থেকে মাঘ এবং চৈত্র মাস ৩০ দিন এবং ফাল্গুন মাস ২৯ দিন গণনা করা হবে। তবে গ্রেগরিয় পঞ্জিকার অধিবর্ষে ফাল্গুন মাস ২৯ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিন গণনা করা হবে।
পঞ্জিকার এই সংশোধনের ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারির প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ হবে ৮ (আট) ফাল্গুন। জাতীয় দিবস ২৬ মার্চের প্রতিষঙ্গী তারিখ হবে ১২ চৈত্র। রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী ৮ মে’র প্রতিষঙ্গী তারিখ হবে ২৫ বৈশাখ। নজরুল জন্মজয়ন্তী ২৫ মের প্রতিষঙ্গী তারিখ হবে ১১ জৈষ্ঠ্য এবং বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বরের প্রতিষঙ্গী বাংলা তারিখ হবে পহেলা পৌষ।
বাংলা ১৪০২ সাল থেকে যে বর্ষপঞ্জি দেশে প্রচলিত আছে তা মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ্ সংস্কৃত নতুন নিয়মের ‘শহীদুল্লাহ বর্ষপঞ্জি’। এই বর্ষপঞ্জি অনুসারে বৈশাখ থেকে ভাদ্র প্রতিমাস ৩১ দিন এবং আশ্বিন থেকে চৈত্র প্রতিমাস ৩০ দিন। অধিবর্ষে ৩৬৬ দিন বছর গণনায় ফাল্গুন মাস ৩১ দিন। যে বাংলা সালকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে ২ অবশিষ্ট থাকে সেই বাংলা সাল অধিবর্ষ বা লিপইয়ার হিসেবে গণ্য হয়।
২০১৬ সাল থেকে একুশে ফেব্রুয়ারিসহ জাতীয় দিবসগুলো এবং কবিগুরু রবীন্দনাথের জন্মজয়ন্তী ও নজরুল জন্মজয়ন্তীর বাংলা প্রতিসঙ্গী তারিখ ঠিক বর্ষপঞ্জি চালু তৈরি করে বাংলা একাডেমি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির দ্বিতীয় সভায় সংশোধিত এ পঞ্জিকাটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
/এমও/