এ ধরনের লিটফেস্টের প্রয়োজন আছে: শামসুজ্জামান খান

 

শামসুজ্জামান খান

প্রথম দিকে এই লিটফেস্ট খুব বেশি আলোড়ন করতে পারেনি। কিন্তু এখনকার উপস্থিতি দেখলে বুঝা যায়,  বিপুল আকর্ষণে মানুষ আসছেন। আমরা বুঝতে শুরু করেছি আন্তর্জাতিক মানের সাহিত্য সম্মেলন হচ্ছে এবং সেখানে আমাদের কতটা অবদান থাকছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

ষষ্ঠ লিট ফেস্ট উপলক্ষে বাংলা ট্রিবিউন আয়োজিত সাহিত্য যখন সবার শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আাদের লোকজ সংস্কৃতির নানা উপাদান প্রচার করেছেন এই ফেস্টে। ভাল অনুবাদ হলে আমাদের সাহিত্যিক নোবেল পেতে পারেন বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি আরও বলেন, এর মধ্য দিয়ে অনুবাদে অনুরাগী হয়ে উঠছে অনেক। ভাবা যায় না, বাংলা মহাকাব্য মনসামঙ্গলের অনুবাদ হয়ে গেছে। ফকরুল আলম অনুবাদ করেছেন বিষাদ সিন্ধু।

যতই বলা হোক সাহিত্য সবার, সাহিত্য আসলে বিশেষ ঘরানার কিনা সঞ্চালক মিথিলা ফারজানার এ প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা আসছেন বন্ধু পাচ্ছেন, আমাদের সাহিত্য জানছেন। ধীরে ধীরে এটি সার্বজনীন উৎসব হয়ে উঠছে।

বেশিরভাগ বাংলাভাষা পাঠকদের জন্য এই ফেস্ট কিনা প্রশ্নে সাদাফ সায্‌ বলেন, জগতকে বাংলাদেশে নিয়ে আসবো এবং বাংলাদেশকে  জগতের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এটাকে আন্তর্জাতিক করে তুলতে চেয়েছি বলেই কেবল পশ্চিমা সাহিত্য নিয়েই আমরা ভাবিনি। শুরুতে অনেক বিতর্ক হয়েছে এবং এগুলোর খুবই দরকার ছিল বলে আমরা বিশ্বাস করি। কারণ স্বপ্ন ছিল, বাংলা চর্চা হবে, সেটি অনুবাদ হবে এবং সেটা বাইরে যাবে এবং বাইরেরটা এখানে আসবে। আমরা এগুলোর মধ্য দিয়ে সবার সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে পেরেছি।

উল্লেখ্য, এ সপ্তাহের শেষেই শুরু হতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় সাহিত্য উৎসব ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৬। বিশ্বের ১৮টি দেশের দুই শতাধিক সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, গবেষকসহ শিল্পবোদ্ধা ও শিল্পানুরাগীদের পদচারণায় মুখর হতে যাচ্ছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে বিশ্ব সাহিত্যের সরাসরি মেলবন্ধন ঘটাতেই ছয় বছর ধরে চলছে এই আয়োজন। এই উৎসবকে সামনে রেখেই বাংলা ট্রিবিউন আয়োজন করেছে ‘সাহিত্য যখন সবার’ শীর্ষক বিশেষ বৈঠকি।

ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালকেরা, দেশের শীর্ষ স্থানীয় সাহিত্যিক ও সংশ্লিষ্টরা বাংলা সাহিত্যসহ বিশ্ব সাহিত্যের বিস্তৃতি, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন এই বৈঠকিতে।

/ইউআই/এফএএন/