‘খায়রুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যা করা হয় দীপন-নিলয়কে’

ব্লগার দীপন-নিলয় হত্যার মূল আসামি খায়রুল

আনসাল আল ইসলামের আইটি বিশেষজ্ঞ খায়রুল ইসলামের (২৬) তথ্যের ভিত্তিতে ও দলটির সামরিক কমান্ডার মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ জিয়াউল হকের নির্দেশে হত্যা করা হয় প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন ও ব্লগার নিলাদ্রী চ্যাটার্জী নিলয়কে। শুক্রবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকার করেছে খায়রুল।  

শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন এই তথ্য জানান। এই জঙ্গি খায়রুল সাংগঠনিকভাবে কখনও জিসান কখনও ফাহিম আবার  কখনও জামিল কিংবা ইফাদ নামেও পরিচিত।

আব্দুল বাতেন আরও জানান, খায়রুল জানিয়েছে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আনসার আল ইসলামের সামরিক কমান্ডার মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ জিয়াউল হকের সঙ্গে ঢাকার আশেপাশের একটি এলাকায় তার সাক্ষাৎ হয়। তবে এরপর জিয়ার সঙ্গে আর তার যোগাযোগ হয়নি।

গোয়েন্দা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘খায়রুল ইসলাম ২০১৩ সালে আনসার আল ইসলাম তথা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে এক বড়ভাইয়ের নির্দেশে যোগদান করে। ওই বড়ভাই হচ্ছে সেনাবাগিনী থেকে বরখাস্ত মেজর জিয়া। খায়রুল এই জঙ্গি সংগঠনের আইটি এক্সপার্ট (বিশেষজ্ঞ) হিসেবে দায়িত্ব পায়। তার কাজ ছিলো ইন্টারনেট থেকে মুক্তমনা ও ব্লগারদের তথ্য সংগ্রহ করে তা বড়ভাইকে (মেজর জিয়া) দেখানো। এরপর বড়ভাই টার্গেট ঠিক করতো কাকে হত্যা করতে হবে। বড়ভাই টার্গেট ঠিক করার পর, একটি অপারেশনাল টিমকে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিলয় ও দীপনকে হত্যার দায়িত্ব পায় খায়রুল। সে পুরো বিষয়টি মনিটরিং করে। হত্যাকাণ্ড শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন ওয়েবসাইটে হত্যার দায় স্বীকারও সে করে।’

এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খায়রুল ইসলামকে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে।

ব্রিফিংয়ে ডিএমপি যুগ্মকমিশনার বলেন, ‘খায়রুল চট্টগ্রামে তার ভাই-বোনের সঙ্গে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ছিল। তার বাবা মা নেই। আনসার আল ইসলামে যোগদানের পর সে ঢাকায় আসে। রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর ও এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় মারকাজ (প্রশিক্ষণ) করে। এরমধ্যে এলিফ্যান্ট রোডে সাতদিনের মারকাজ করে।’

মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ড. অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের সময় ওই এলাকায় থাকা সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ খায়রুলকে দেখানো হয়েছে উল্লেখ করে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ থেকে অন্তত চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা তাদের সাংগঠনিক নাম বলেছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। আপনারা জানেন, জঙ্গিরা একে অপরের ব্যক্তিগত পরিচয় কখনও জানতে চায় না।’

তিনি বলেন, ‘খায়রুল ছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নেতৃত্বস্থানীয় সদস্য। তার সঙ্গে আরও ৪/৫ জন ইন্টেলিজেন্স সংগ্রহ করতো। খায়রুলের মূল দায়িত্ব ছিল কারা কারা ধর্মবিরোধী লেখালেখি করে, প্রবন্ধ প্রকাশ করে। তাদের তালিকা নিয়ে মেজর জিয়া অনুসন্ধান করতো। ‘কথিত ধর্মবিরোধী’ ব্লগার, লেখক ও প্রকাশকদের লিস্ট তৈরি করে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের হাতে দিতো। তারা অনুসরণ করা শুরু করতো।

এ বিষয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতারকৃত খায়রুল ইসলামকে দশদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ অক্টোবর জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপনকে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে নিজ কার্যালয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার আগে ৭ আগস্ট বাসাবোতে নিজ বাসায় খুন হন নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়। এসব হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায় স্বীকার করে আনসার আল ইসলাম।

/এআরআর/টিএন/