ঢাকার নদী রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা হঠাৎ ভেঙে ফেলা হবে: নৌমন্ত্রী

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান (ফাইল ফটো)ঢাকার চারপাশের বালু, তুরাগ, শীতলক্ষা ও বুড়িগঙ্গা নদীরক্ষায় নদী তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো হঠাৎ ও দ্রুততার সঙ্গে ভেঙে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী ও জাতীয় টাস্কফোর্সের সভাপতি শাজাহান খান।

রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় টাস্কফোর্সের ৩৩তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন- পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, নৌ-সচিব অশোক মাধব রায়, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা।

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে চার নদী রক্ষা, অবৈধ দখলমুক্ত করতে নদীগুলোর পাড়ে ১৩টি স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। যা দ্রুত সময়ের মধ্যে হঠাৎ অপসারণ করা হবে।’

কোন কোন স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কৌশলগত কারণে স্থাপনাগুলোর নাম এবং কোন নদীর তীরে কতটি আছে বলা যাবে না। কারণ নাম বললে স্থাপনার মালিকরা বিভিন্ন ফন্দিফিকির করতে পারে। আমাদের ফোর্স হঠাৎ গিয়ে সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলবে।’

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহ করা নকশার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন নদীর সীমানা পিলার স্থাপন করবে, নদীর দুই পাড়ের জমিতে সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও স্থাপনা গড়ে না তোলার নির্দেশনা দিয়ে জমির মালিক দাবিদারদের উদ্দেশ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে, এসব জমির খাজনা না নিতে তহশিলদারকে নির্দেশনা দেওয়া হবে, নদীরক্ষা ও নদীকে দূষণ রোধ করতে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে, অধিকতর মজবুত সীমানা পিলার বসানো হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, ‘ঢাকার এসব নদীর তীরে অনেক রাঘব বোয়ালদের স্থাপনা আছে। তবে কেউই সরকারের চেয়ে শক্তিশালী নয়। স্থাপনার মালিকরা যত শক্তিশালীই হোকে এগুলো ভাঙা হবেই। উচ্ছেদ অভিযান চলবেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘নদীকে দূষণমুক্ত করতে নৌ-বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে নৌ-বাহিনীর পরামর্শ মোতাবেক কো-অর্ডিনেশন কমিটির আকার কেমন হবে তা বিবেচনার জন্য প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে কমিটি গঠন করা হবে। এরপরই নৌবাহিনী কাজে নামবে।’

/এসআই/এসএনএইচ/টিএন/