স্বাধীনতাবিরোধী মোনায়েম খানের দখলে থাকা রাজউকের আরও জমির সন্ধান পাওয়া গেছে।নতুন করে সন্ধান পাওয়া এ জমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার কাঠা। আদালতের নির্দেশে রাজউক,সিটি করপোরেশন ও মোনায়েম খানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আজ (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত যৌথ পরিমাপে (জরিপ) এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বুধবার জরিপ সংশ্লিষ্ট একটি রিপোর্ট উচ্চ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিমানবন্দর সড়ক সংলগ্ন বনানীর ২৭ নম্বর সড়কে মোনায়েম খানের মালিকানাধীন ১১০ নম্বর প্লটে যৌথ জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়। জরিপে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-ডিএনসিসি ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি এবং স্বাধীনতাবিরোধী প্রয়াত মোনায়েম খানের ছেলে এএইচএম কামরুজ্জামান খান, তার নিযুক্ত সার্ভেয়ার, আইনজীবী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য।
জরিপ শেষে ডিএনসিসির তিন নম্বর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম বলেন, ‘মোনায়েম খানের প্লটের নতুন নির্মিত সীমানা দেওয়াল থেকে আরও অন্তত ১৪ ফুট ভেতরে পর্যন্ত রাজউকের জমি রয়েছে।এখানে জমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার কাঠা।এ জমি তারা দখলে রেখেছেন। যৌথ জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।’
প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান,‘গত ১৩ নভেম্বর উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ জারি করে নির্দেশ দেন, ১৫ নভেম্বর প্লটটিতে যৌথ জরিপ করতে হবে এবং এই জরিপের রিপোর্ট ১৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে। সে অনুযায়ী আমরা ত্রিপক্ষীয় জরিপ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘বুধবার এ রিপোর্ট আদালতে পেশ করব। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, ‘রিট পিটিশনটি দায়ের করেছেন মোনায়েম খানের ছেলে এএইচএম কামরুজ্জামান খান।’
এর আগে গত ৩ নভেম্বর ডিএনসিসি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে মোনায়েম খানের দখলে থাকা রাজউকের প্রায় ১০ কাঠা জমি উদ্ধার করে। এরপর উদ্ধারকৃত জমিতে ২৭ নম্বর সড়কটি প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার জরিপে পাওয়া জমি উদ্ধার করা হলে মোনায়েম খানের উত্তরাধিকারীদের দখল থেকে উদ্ধারকৃত জমির পরিমাণ দাড়াবে ১৪ কাঠা।
মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বনানী কবরস্থানের সামনে ২৭ নম্বর সড়কের পশ্চিম প্রান্তটি (বিমানবন্দর সড়কের সংযোগস্থল) এক সময় যেখানে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল, এখন ওই অংশটার প্রশস্ততা বেড়েছে। বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে আসা যানবাহন খুব সহজেই বনানীতে প্রবেশ করতে পারছে। যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে ডিএনসিসি উদ্ধার করা জমিতে সড়ক সম্প্রসারণ করে ইতোমধ্যে কার্পেটিং করেছে। অন্যদিকে মোনায়েম খানের উত্তরাধিকারীরা তাদের দখলে থাকা জমিতে নতুন করে দেওয়াল নির্মাণ করেছেন।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে জন্মগ্রহণকারী আবদুল মোনায়েম খান ১৯৬২ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ১৯৬৯ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন। এ সময় তিনি ঢাকা ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাস্ট-ডিআইটি (বর্তমানে রাজউক) থেকে বনানীর ২৭ নম্বর সড়কে পাঁচ বিঘা আয়তনের আলোচিত প্লটটি বরাদ্দ নিয়ে নেন।তিনি সেখানে ‘বাগ-এ মোনায়েম’ নামে বাসভবন নির্মাণ করেন। এর পাশাপাশি প্লটের পাশে থাকা রাজউকের খালি জমিও অবৈধ দখলে নেন তিনি। তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা এ জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
গভর্নর থাকাকালে ৬ দফাসহ পূর্বপাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করেন মোনায়েম খান। একাত্তরের ১৩ অক্টোবর বনানীর ‘বাগ-এ মোনায়েমে’ অবস্থানকালে মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদের গুলিতে মারাত্মক আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন আইয়ুব খানের এই ঘনিষ্ঠ দোসর।
ওএফ/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা আইভীর