সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের আইনি কাঠামো করার সুপারিশ

জাতীয় সংসদব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের এখন পর্যন্ত কোনও আইনি সাংগঠনিক কাঠামো না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংসদীয় কমিটি। এজন্য কমিটি সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের কাঠামোকে দ্রুত আইনি কাঠামোয় এনে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মুহিবুর রহমান, সুবিদ আলী ভূঁইয়া, আবদুর রউফ ও নাভানা আক্তার অংশ নেন।
বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের সাংগঠনিক কাঠামো এবং এর নিরীক্ষা আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিটি সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে আইন করার পক্ষে মত দেয়।

জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি শওকত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারের নির্বাহী আদেশে সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের জন্ম হয়েছিল। তবে এর যে সাংগঠনিক কাঠামো তার জন্য কোনও আইন নেই। কিন্তু কমিটি মনে করে, প্রতিষ্ঠানটিকে গতিশীল করতে হলে এর কাঠামোকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। তাই কমিটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে সোলজারস, সেইলরস অ্যান্ড এয়ারম্যান বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠানটি পাকিস্তান সোলজারস, সেইলরস অ্যান্ড এয়ারম্যান বোর্ডে নামে নিজেদের কাজ পরিচালনা করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম হয় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড। ১৯৭২ সালের ২ নভেম্বর সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৮৪ সালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ গঠিত হওয়ার পর সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড পরিচালনার দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়। বর্তমানে এই বোর্ডের মাধ্যমে ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

কার্যপত্র থেকে আরও জানা যায়, ২০০৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের অনিষ্পন্ন নিরীক্ষা আপত্তির সংখ্যা পাঁচটি। এর সঙ্গে জড়িত টাকার পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের নিরীক্ষার কাজ চলমান আছে।

/ইএইচএস/টিএন/আপ-এআর/