ঝিনাইদহ থেকে নিখোঁজ হয় জঙ্গি সোহেল

র‌্যাবের হাতে আটক সোহেল রানা

ঝিনাইদহের নিজ বাড়ি থেকে গত ৩ জুন সকালে বের হয়েছিল জঙ্গি সোহেল রানা ওরফে শহীদুল্লাহ(২৩)। এরপর থেকে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। গত বুধবার (১৬ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর আদাবর থেকে তাকে আটক করে ‌র‌্যাব-২। জেএমবির ‘সারোয়ার-তামিম’ গ্রুপের মৃত আমির  সারোয়ার জাহানের খুবই ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বাসী গুপ্তচর ছিল।

বুধবার রাত ৮টায় এক বিশেষ অভিযানে এয়ারপোর্ট-রেলস্টেশন এলাকা থেকে মাওলানা আব্দুল হাকিম ও রাজীবুল ইসলামকে আটক করে র‌্যাব। তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, আদাবরের মোহাম্মদিয়া ক্যাফে থেকে সোহেল রানা, গাজী কামরুস সালাম সোহান ও আবু সালেহকে আটক করা হয়।

সোহেল রানার বড় ভাই মাসুদুর রহমান মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘গত ৩ জুন সকালে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হয় সোহেল। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে না পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় ৪ জুন একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ডায়েরি নম্বর ১৪৫।’

জানা গেছে, পরিবারে দুভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট সোহেল। পড়াশুনা করেছে মাদ্রাসায়। তবে অভাবের কারণে পড়াশুনা শেষ করতে পারে নাই। জেলা শহরের ঝিনাইদহ পাবলিক হেল্থ জামে মসজিদের খাদেম হিসেবে কাজ করত সে। পাশাপাশি মসজিদে আযান দিতো । সংসারে সাহায্য করার জন্য পড়াশুনা ছেড়ে মসজিদে কাজ শুরু করে প্রায় আট থেকে দশ বছর আগে। ৩ জুন পর্যন্ত সেখানেই দায়িত্ব পালন করে।

তবে সোহেল রানা কোনও ধরনের উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কিনা এব্যাপারে পরিবারের কেউ কিছু জানতেন বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই। মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাই এমন কাজের সঙ্গে জড়াতে পারে, এটা সত্য বলে মনে হয় না। অভাবের সংসারে থেকে জঙ্গিদের সঙ্গে মিশে যাবে এটা হতে পারে না।’

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুনেছি এমন একজন ঢাকায় আটক হয়েছে। থানায় জিডি হয়েছিল কিনা, সেটা থানায় গিয়ে দেখতে হবে, আমি বাইরে আছি।’

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, জেএমবির ‘সারোয়ার-তামিম’ গ্রুপের অন্যতম সদস্য ছিল সোহেল রানা। তার বাসস্থান ও কর্মস্থল ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের ‘সেফ হাউজ’। সোহেলের তত্ত্বাবধানেই বিভিন্ন বৈঠক হতো। এসব বেঠকের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতো সে।

আটক হওয়ার পর র‌্যাবকে দেওয়া তথ্য মতে, তার ঘরে  সারোয়ার জাহানের নেতৃত্বেও একটি বৈঠক হয়েছিল। এতে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ছাড়াও র‌্যাবের হাতে আটক রাজীবুল ইসলাম উপস্থিত ছিল। সেই বৈঠকেই একটি থানায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়। হামলার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে থানার সকল তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় সোহেল রানাকে।

জানা গেছে, ‘সারোয়ার-তামিম’ গ্রুপের সারোয়ার বিভিন্ন জায়গায় গোপন নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি সোহেলকে পাঠাতো। পরবর্তীতে সেগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতো সোহেল।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে জঙ্গিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয় সোহেল রানা অরফে শহীদুল্লাহ। ২০১৫ সালে ‘সারোয়ার-তামিম’ গ্রুপের জঙ্গিদের সঙ্গে যুক্ত হয় সে বলে র‌্যাবের দাবি।

আরজে/এপিএইচ/