ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগর অভিমুখে লং মার্চ স্থগিত করেছে মাইনোরিটি রাইটস মুভমেন্টের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সকালে লং মার্চ নিয়ে নাসিরনগর যাওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা বলছে, পুলিশের বাধার কারণে তারা লং মার্চ স্থগিত করেছে।
তবে পুলিশ বলছে, শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীদের সাহায্যে নাসিরনগর যেতে সার্বিক সহায়তা করেছে। স্থগিত হওয়ার কারণ জানেন না তারা।
শুক্রবার সকালে লং মার্চের উদ্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত যান শিক্ষার্থীরা। সেখানে বাসটি নিয়ে যেতে বাধা দেয় পুলিশ। কয়েক ঘণ্টা এনিয়ে বাকবিতণ্ডা করেও পুলিশের অনুমতি না পেয়ে ফিরে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। সেখানে পুলিশ বাস নিয়ে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় লং মার্চ স্থগিত করেন।
মাইনোরিটি রাইটস মুভমেন্টের সমন্বয়ক মানিক রক্ষিত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা লং মার্চের জন্য তিনটি মাইক্রো ও একটি বাস নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ তিনটি মাইক্রো নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেও বাসটি নেওয়ার অনুমতি দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ ৫-১০টাকা নিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার সংগ্রহ করেছিলাম। সবার কষ্টের কারণে এই ফান্ড সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। সবাই চেয়েছে সেখানে গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু বাসটি যেতে না দেওয়ায় তাদের নাসিরগর নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। সামান্য কয়েকজন নিয়ে আমরা যেতে পারছি না।’
বাসটি নেওয়ার জন্য একাধিকবার পুলিশকে অনুরোধ করা হলেও তারা অনুমতি দেননি। তারা শুধু ৩টি মাইক্রো নিয়ে যেতে বলেছে বলে জানিয়েছেন মানিক রক্ষিত। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সরকার দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ না নিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ বিষয়ে রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তিনটা মাইক্রো ঠিক করে দিলাম। তাহলে কিভাবে অনুমতি দিলাম না। আমরাই তো মাইক্রো ঠিক করে দিলাম। ওরা কেন স্থগিত করলো এটা তাদের সমস্যা। আমাদের পক্ষ থেকে কোনও সমস্যা ছিল না।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর নাসিরনগরে হামলার প্রতিবাদে দ্বিতীয়বারের মতো শাহবাগে রাস্তা অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকেই ১৮ নভেম্বর ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা দিতে নাসিরনগর অভিমুখে লং মার্চের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
/আরজে/এসটি/