প্রতিদিন ভূমিহীন হচ্ছে প্রান্তিক মানুষ: মেনন

 

 

রাশেদ খান মেননখাদ্যে উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও প্রতিদিন প্রান্তিক মানুষ ভূমিহীন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন হলেও গ্রামীণ মানুষের অধিকার এখনও নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বার্থের কারণে ভূমি দখলের ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিন নানাভাবে গ্রামীণ মানুষকে ভূমিহীন করা হচ্ছে, শিল্পায়নের নামেও ভূমিহীন  করা হচ্ছে।’ শনিবার  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন অপিটোরিয়ামে আয়োজিত এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘মানুষ তার ভূমি থেকে, তার দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এই হারিয়ে যাওয়া এমন পর্যায়ে গেছে যে, আমাদের মধ্যে কোনও বেদনাবোধও নেই।’ তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন না হলে, গ্রামীণ মানুষের উন্নয়ন হবে না। আর গ্রামীণ মানুষের উন্নয়ন না হলে দেশকে কাঙ্ক্ষিত স্থানে নেওয়া সম্ভব হবে না।’  

পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন অর্থনীতি ও অসাম্প্রদায়িক আলোকিত মানুষের বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় সংকল্প ছিল আমাদের। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবউন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে জনকল্যাণকামী কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের কোনও বিকল্প নেই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘‘আমাদের দেশের বৈচিত্র্যগুলো আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। ‘পর্বত সংরক্ষণ দিবস’ বাংলাদেশে বিগত চার বছর ধরে পালিত হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য বৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ এবং বৈচিত্র্যকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া। আমাদের উচিত, রাজনৈতিক অর্থনীতিকে কিভাবে জনকল্যাণে প্রয়োগ করা যায়, তার প্রচেষ্টা করা।’  

বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, ‘ভূমিহীনদের দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট জমি (চরের জমি) চেয়ারম্যানের হাতে চলে গেছে, জমি তারা পাইনি যদি কখনও পেয়ে থাকেন, তাও হামলা-মামলায় খোয়া গেছে।’

অনুষ্ঠানে সন্তু লারমা বলেন, ‘কেবল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীই হারিয়ে যাচ্ছে না, স্বল্প আয়ের মানুষ মাত্রই হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষের অধিকার হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতিগত বৈষম্য দূর না হলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না।  দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষে আছে শোষিত। আরেক পক্ষে আছে শাসক। এই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনা জরুরি। এ জন্য দরকার সংগ্রাম ও আন্দোলন। আর এই ধরনের আন্দোলনে  যারা নেতৃত্ব দেবেন, তাদের নীতি আদর্শ উন্নত মানের হওয়া চাই।’

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অজয় রায়, তথ্য কমিশনের প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।   

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারকাত রচিত  ‘বাংলাদেশে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি ও পলিটিক্যাল ইকোনমি অব আনপিপলিং অব ইন্ডিজেনাস পিপলস: দ্য কেইস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকাশনা অনুষ্ঠান সমন্বয় কমিটির আহবায়ক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ।

/জিএম/এমএনএইচ/